‘সিটি করপোরেশনের জায়গার চাঁদা যাচ্ছে কাউন্সিলরের পকেটে, অভিযোগ ব্যবসায়ীদের’ শিরোনামে চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি যুক্ত করে ওই মাছবাজার বা আড়ত ইজারা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া বিজ্ঞপ্তি এবং গত ১৬ অক্টোবর দেওয়া কার্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৬ নভেম্বর ওই রিটটি করা হয়। কাপ্তানবাজার ও ঠাটারীবাজার মৎস্য, কাঁচামাল সবজি বিক্রেতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ১৯৯ সদস্যের পক্ষে রিটটি করেন সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস আর এম লুৎফর রহমান আকন্দ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আইনজীবী মেজবাহুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট রুল দিয়ে পাঁচ মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ ১৯৯ জন—যাঁরা বরাদ্দ নিয়েছেন, তাঁদের অবস্থানের ওপর স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না। তবে আদেশ পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস আর এম লুৎফর রহমান আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটির মেয়র মোহাম্মদ হানিফের সময় ঠাটারীবাজারে একতলা একটি ভবন নির্মাণ করে ১৯৯ ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মাসিক ভাড়া দিয়ে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। ঠাটারীবাজার ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২০ তা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

লুৎফর রহমান আকন্দ বলেন, ‘ভবন ভেঙে ফেলার পর বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ জায়গায় ত্রিপল দিয়ে মাছের ব্যবসা করে আসছিল। তবে ১৯৯ ব্যক্তির বরাদ্দ বহাল থাকা অবস্থায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইজারা বিজ্ঞপ্তি ও পরে কার্যাদেশ দেয়। এটি বরাদ্দ চুক্তি এবং ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন মার্কেট উপ–আইনের পরিপন্থী। যে কারণে রিটটি করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত ওই রুলসহ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।’