ঢাকার দুঃসহ বায়ুদূষণে আপনার অভিজ্ঞতা কী, জানাতে এক নতুন উদ্যোগ
যে বাতাসে আপনার ঘুম ভাঙে, যে ধোঁয়াশার ভেতর দিয়ে আপনি প্রতিদিন হাঁটেন, তা অদৃশ্যভাবে আপনার বুক ভারী করে তোলে।
সকালে জানালা খুললে কি ধূসর ধোঁয়া ঘরে ঢুকে পড়ে?
বাইরে বের হলেই কি মাথা ঘোরে বা অস্বস্তি অনুভব করেন?—ঢাকা নগরীর বাসিন্দা হিসেবে এসব অনুভূতি যদি আপনার হয়, তবে তা জানাতে পারেন লিখে, নিজের আঁকা ছবি, ভিডিও বার্তা, গবেষণা, আলোকচিত্র বা অন্য যেকোনো কিছু দিয়ে; যাতে প্রকাশ পায় এই দূষণ ও এর প্রভাব নিয়ে আপনার অনুভূতি।
‘কোথায় সেই বিশুদ্ধ বাতাস, যেখানে আমি মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারি’ এমনই এক উদ্যোগ। সেখানে ভয়ানক বায়ুদূষণের কবলে থাকা নাগরিকেরা তাঁদের গল্পগুলো বলতে পারেন। নগরীর ‘শালা-আর্টিস্ট কোলাব’ এর আয়োজন করেছে।
নির্বাচিত কাজগুলো নিয়ে ঢাকার শালা নেবারহুড আর্ট স্পেসে একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল শিল্প প্রদর্শনী নয়; বরং নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কাছে নাগরিক দাবি তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁদের বক্তব্য, বিশুদ্ধ বাতাস কোনো বিলাসিতা নয়—এটি মৌলিক মানবাধিকার।
কী পাঠাবেন: ব্যক্তিগত গল্প, স্মৃতি, কবিতা বা অনুভূতি
বায়ুদূষণের কারণে হওয়া চর্মরোগ, হার্টের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার বর্ণনা
ছবি, একিউআইয়ের স্ক্রিনশট বা প্রাসঙ্গিক গবেষণার তথ্য
আঁকা ছবি, আলোকচিত্র বা ভিডিও বার্তা
আপনার এলাকার বাতাস নিয়ে যেকোনো ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।
কারা অংশ নিতে পারবেন: শিল্পী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী কিংবা সাধারণ নাগরিক—ঢাকার যেকোনো বাসিন্দাই এতে অংশ নিতে পারবেন। আয়োজকদের ভাষায়, ‘আমরা সবাই এই বাতাসের অংশীদার; তাই প্রত্যেকের কণ্ঠই গুরুত্বপূর্ণ।’
আবেদনের শেষ সময়: ২০ মার্চ ২০২৬।
জমাদান: গুগল ফরমের মাধ্যমে
জিজ্ঞাসা: [email protected]
আয়োজকেরা বলছেন, ঢাকার বাতাস এখন আর কেবল পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে, বায়ুদূষণ শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ থাকে না; রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ছে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, লিভারের জটিলতা, ত্বকের সংক্রমণ এবং এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল শিল্পভিত্তিক আহ্বান নয়; বরং নাগরিক জীবনের দলিল তৈরির প্রচেষ্টা। ‘Somatic Archive’ বা শারীরিক স্মৃতিশালা গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁরা নথিবদ্ধ করতে চান—বায়ুদূষণ কীভাবে মানুষের শরীর, অনুভূতি ও দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে। প্রতিটি AQI সংখ্যার পেছনে যে মানবিক গল্প রয়েছে, সেই কণ্ঠস্বরগুলো একত্র করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
উদ্যোক্তারা বলছেন, চুপ থাকা মানেই এই নীরব সংকট মেনে নেওয়া। এখনই সময় দূষিত বাতাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার এবং সম্মিলিতভাবে বিশুদ্ধ বাতাসে বাঁচার অধিকার দাবি করার।