‘ওই যে বাঘ!’
রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় বকুল নামে বেঙ্গল টাইগারের (বাঘ) খাঁচার সামনে অনেকের ভিড়। এর মধ্যে শিশুরা খাঁচার প্রাথমিক বেষ্টনী ধরে কাছ থেকে বাঘটি দেখছে। বকুল নামের বাঘটিও ছিল চঞ্চল। এদিক থেকে ওদিকে ছুটছিল। বকুলের ছোটাছুটি দেখে বারবার এই শিশুরা বলছিল, ‘টাইগার’, ‘টাইগার’।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এমন চিত্র দেখা যায়।
অন্য শিশুদের মতো রাফসানও (৩) খাঁচার প্রাথমিক বেষ্টনী ধরে কাছ থেকে বকুলকে দেখছিল। পাশেই ছিলেন তার বাবা মো. ইয়াসিন। বকুলকে দেখা শেষে চলে যাওয়ার সময় কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। বাঘ দেখেছ, এই প্রশ্ন করতেই বাবার কোলে থাকা রাফসানের মুখে চওড়া হাসি। খাঁচার দিকে আঙুল তুলে রাফসান বলে, ‘ওই যে বাঘ!’
রাফসানের খুশিতে আনন্দ ওর বাবা-মায়েরও। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে পরিবার নিয়ে আসা ইয়াসিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে রাফসানের যখন তিন মাস বয়স, তখন তাঁরা তাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন। তারপর আর আসেননি। এবার তাঁরা গ্রামের বাড়ি যাননি, কোরবানিও দেননি। এ কারণে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় এলেন। বিশেষ করে, তাঁর বাচ্চা যেন পশুপাখি দেখতে পারে, সে জন্যই তাঁরা চিড়িয়াখানায় এসেছেন। চিড়িয়াখানায় এসে তাঁর বাচ্চা খুবই খুশি।
কোরবানির এই ঈদের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানায় খুব কম দর্শনার্থী দেখা গেল। অবশ্য দর্শনার্থী কম থাকায় আগতরা খুশি। কারণ, হুড়োহুড়ি ছাড়া এবং ভালো পরিবেশে ঘুরে ঘুরে তাঁরা পশুপাখি দেখতে পারছেন। আরামদায়ক সময় কাটাতে পারছেন।
গাজীপুরের গাছা থেকে ৮ তরুণ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং একজন শিক্ষার্থী। তাঁরা সবাই এর আগে একাধিকবার জাতীয় চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন।
তাঁদের মধ্যে সাকিব মির্জা নামে একজন প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে তাঁরা যখন এসেছিলেন, তাঁদের ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে, গাছপালায় ঘেরা চিড়িয়াখানার শান্ত পরিবেশ তাঁর ভালো লেগেছিল। সে কারণে তাঁরা আবার এসেছেন। এসে আজও চিড়িয়াখানার শান্ত পরিবেশ তাঁদের ভালো লেগেছে।
সোহান ইসলাম নামের আরেক তরুণ বলেন, তাঁরও চিড়িয়াখানার শান্ত পরিবেশ ভালো লাগে। প্রাণী দেখার চেয়ে বরং এমন শান্ত পরিবেশই তাঁর বেশি ভালো লাগে।
অবশ্যই অভিভাবকদের একটা অংশ এসেছেন শিশুদের আবদার মেটানোর জন্য। এমন একজন আবু সাঈদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দুই মেয়ে এবং ভাগিনার আবদারে তাদের নিয়ে তিনি এসেছেন। এখানে এসে বাচ্চারাও খুশি, তিনিও খুশি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজার ৩৪২টি প্রাণী ও অ্যাকুরিয়াম ফিশ (মাছ) প্রদর্শিত হচ্ছে।