আমার সাজিদের গেঞ্জি বুকে নিয়ে এখনো ঘুমাই: শহীদ সাজিদের মা
যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আজকে এখানে আমার সাজিদই বসে থাকত; আমি আসতাম না। আমি আজ এখানে এসেছি একজন শহীদের মা হিসেবে। প্রতিদিন রাতে আমার সাজিদের একটা গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমাই।
কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদের মা লিপি বেগম।
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নেন সাজিদের মা এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক এই সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শহীদ সাজিদের মা বলেন, সাজিদ ২০২৪ সালের আগস্টে শহীদ হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে সাজিদের বাবা মারা গেছেন। আজ আমার সাজিদও নেই, ওর বাবাও নেই। আমি আর আমার মেয়ে দুনিয়ায় বেঁচে আছি, কিন্তু এটাকে বেঁচে থাকা বলা যায় না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিপি বেগম বলেন, সাজিদ ছিল আমার একমাত্র ছেলে। কোনোভাবে বেঁচে আছি। আমি দুনিয়ায় জিন্দা লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি। প্রতিদিন রাতে আমার সাজিদের একটা গেঞ্জি বুকে নিয়ে ঘুমাই। এখনো সেই গেঞ্জিটাই আমার একমাত্র সান্ত্বনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে চিঠি লিখে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হওয়া গেন্ডারিয়ার শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মা। এ ছাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ।