ছোটবেলা থেকেই বাংলা ভাষা চর্চা করতে হবে

রাজধানীর ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ‘বর্ণমেলা’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বছবি: তানভীর আহাম্মেদ

একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু শোকের দিন নয়। এই দিন অর্জনের ও উদ্‌যাপনের। নিজ মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষা। কিন্তু এখন বিদেশি ভাষার আগ্রাসনে বাংলা ভাষার চর্চায় অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এই অবক্ষয় রুখতে হবে। বাংলা ভাষাকে বিশ্বে আলাদা মর্যাদার আসনে নিতে হবে। এ জন্য ছোটবেলা থেকেই বাংলা ভাষা চর্চা করতে হবে।

রাজধানীর ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে প্রথম আলোর ‘বর্ণমেলা’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে বক্তারা এসব কথা বলেন। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রথম আলো আয়োজন করেছে বাংলা বর্ণ নিয়ে সৃজনশীল অনুষ্ঠান ‘বর্ণমেলা’। আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্র্যান্ড মেরিল বেবি। সহযোগিতা করছে সেপনিল, সুপারমম ও এটিএন বাংলা।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ণমেলার আয়োজন
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

সকাল ৯টায় মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ণমেলার আয়োজন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সঙ্গে বর্ণমেলার শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অতিথিরা। সুরের ধারার অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নির্দেশনায় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, বাঙালি জাতি দিন দিন যেন নিজেদের অস্তিত্ব থেকে সরে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকেও নিজস্ব অস্তিত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। বাংলাকে এগিয়ে নেওয়া কোনো ব্যক্তির কাজ নয়, এটি সামগ্রিক কাজ। মনেপ্রাণে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে হবে। শ্রদ্ধা জানাতে হবে। আয়োজনে চঞ্চল চৌধুরী ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ গানের দুই লাইন গেয়ে শোনান।

বর্ণমেলা আয়োজনে বর্ণ প্রদর্শনী
ছবি: প্রথম আলো

অভিনেত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী ত্রপা মজুমদার বলেন, বিশ্বমানব হতে গেলে নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে হবে। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নিজের ভাষা, সংস্কৃতির পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে। শিশুদের জন্য এমন আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ দেন তিনি।

স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং জেসমিন জামান বলেন, শোকের দিন ছাপিয়ে, আজ অর্জনের দিন। শিশুদের বাংলা বর্ণের প্রতি আগ্রহী করতে এই মেলার চেয়ে ভালো আয়োজন আর কিছু হতে পারে না।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, তরুণদের তাজা রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলা ভাষা। এই বাংলাকে বিশ্বে আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করতে ছোটবেলা থেকেই তা চর্চা করতে হবে।

এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান প্রধান তাশিক আহমেদ বলেন, বিদেশি ভাষার আগ্রাসনে বাংলা ভাষার চর্চায় অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এই অবক্ষয় রুখতে হবে। বাংলা ভাষা চর্চায় সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে।

শিশুদের জন্য বাংলা ভাষা চর্চার এই আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সিসিমপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম।

বর্ণমেলা আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা এক বিশ্বে বসবাস করছি। বিশ্বে আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে মাতৃভাষা ও দেশকে মনে রাখতে হবে। বই পড়তে হবে। সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে।’

বাংলা বর্ণ নিয়ে সৃজনশীল এই আয়োজনে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। হাতের লেখা প্রতিযোগিতা সকাল ১০টায়। আর বর্ণ বানানোর প্রতিযোগিতায় আসা বর্ণ নিয়ে হচ্ছে প্রদর্শনী।

দিনব্যাপী বর্ণমেলায় রয়েছে বর্ণ প্রদর্শনী, বর্ণ মুখোশ, বর্ণ প্রযুক্তি, বর্ণে ডাকটিকিট, বর্ণ আড্ডা, বর্ণ ধাঁধা, বর্ণ আঁকা, মস্ত বর্ণ, খাবারে-কাপড়ে বর্ণ, কাগজের ইশকুল, নাগরদোলা, সিসিমপুর, গুফি ওয়ার্ল্ড, জল পড়ে পাতা নড়ে, ঢাকা পাপেট থিয়েটার, ইকরিমিকরি, জাদু, গানসহ বর্ণ নিয়ে নানা আয়োজন। এ ছাড়া আয়োজনে আছে বই বর্ণালি, প্রথমা বইয়ের দুনিয়া, কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা, মেরিল বেবি বর্ণিল বর্ণ, সুপারমমের বাড়ি, সেপনিল আমার বর্ণ আমার হাতে।