রেণুর দুই সন্তান ও তাদের খালা নাজমুন নাহারের সঙ্গে গত সোমবার কথা হয় তাঁদের মহাখালীর ভাড়া বাসায়। নাজমুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, মায়ের এমন ভয়ংকর মৃত্যু শিশু দুটিকে বদলে দিয়েছে।

তাহসিন একসময় মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করত। এখন সে অনেক নীরব হয়ে গেছে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলেন, ছেলেটা আগের মতো দুষ্টুমি করে না। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করে না। সারাক্ষণ শুধু কী যেন ভাবে।

নাজমুন নাহার বলেন, তাহসিনকে স্কুলের হোস্টেলে দেওয়া হয়েছে যেন অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশে আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। সেখানেও মাহির আনমনা হয়ে থাকে।

১৪ বছর বয়সী তাহসিন পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। আর ৭ বছরের তাসমিন পড়ে মহাখালীর শিশুমেলা স্কুলে। সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। নাজমুন নাহার বলেন, ‘তুবাকে বই হাতে দিয়ে, খেলনা দিয়ে, আবার কখনো ঘুরতে নিয়ে গিয়ে রেণুর কথা ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করি।’

তুবা আগে মনে করত তার মা বিদেশে মামার কাছে গেছে। কিন্তু তুবা এখন অনেক কিছুই বোঝে বলে জানান নাজমুন নাহার। তুবাকে তার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ‘মা এখন ফোনও দেয় না, কথাও বলে না, মা আকাশের চাঁদ হয়ে গেছে।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মা-হারা এই দুই সন্তানকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। ব্যাংকে রাখা সেই অর্থ থেকে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা তুলতে পারেন নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

স্বামীর অল্প উপার্জনের টাকায় তাঁর দুই সন্তান ও রেণুর দুই সন্তানসহ পুরো পরিবার চলছে। নাজমুন নাহার বলেন, অর্থাভাবে শিশুগুলোর অনেক চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় মা-হারা দুই শিশুর ভরণপোষণে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

রেণু হত্যা মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলাটিতে ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলায় এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। নিহত তাসলিমা ইডেন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করেন।

বিয়ের পর তিনি আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেন। বড় ছেলের বয়স যখন দেড় বছর, তখন তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তাসলিমার সঙ্গে তাঁর স্বামী তসলিম হোসেনের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন ছেলে থাকত বাবার কাছে এবং মেয়ে থাকত মায়ের কাছে।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন