ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় ‘ভাইকে’ হত্যা, চার মাস পর গ্রেপ্তার

গ্রেফতার হওয়া খোরশেদ আলমছবি: র‍্যাব এর সৌজন্যে

রাজধানীর ফকিরাপুলে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেলের চালক বুলবুল আহমেদ ওরফে রুবেল (৪২) হত্যার চার মাস পর অভিযুক্ত একমাত্র আসামি খোরশেদ আলম ওরফে রনিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বুধবার রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত বুলবুলের পালিত ভাই।

পুলিশ বলেছে, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খোরশেদকে (৪৩) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ১৯ অক্টোবর ফকিরাপুলের কোমর গলির একটি বাসায় খোরশেদ ছুরিকাঘাতে বুলবুলকে হত্যা করেন।

র‍্যাব সূত্র জানায়, বুলবুল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জে নিজ বাড়িতে থাকতেন এবং সেখানে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালাতেন। তাঁর মা ও ছোট ভাই ফকিরাপুলের কোমর গলির একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সেখানে পালিত ভাই খোরশেদও থাকতেন।

বুলবুলের ছেলে আলিফ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গত ১৯ অক্টোবর তাঁর মা–বাবা তাঁর দাদিকে দেখতে মুন্সিগঞ্জ থেকে ফকিরাপুলের বাসায় আসেন। সেখানে তাঁর এক খালা তাঁর দাদির সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই কক্ষের একটি খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন খোরশেদ। কথোপকথনে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে তিনি উগ্র আচরণ শুরু করেন এবং তাঁর খালাকে গালাগাল দেন। সেখানে উপস্থিত তাঁর বাবা (বুলবুল) খোরশেদের কাছে জানতে চান, তিনি এমন উগ্র আচরণ করছেন কেন? এ সময় তাঁর মা–ও (বুলবুলের স্ত্রী) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে তাঁর বাবা ও খোরশেদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খোরশেদ তাঁর বাবাকে ফল কাটার ছুরি এনে বুকে আঘাত করেন। এ সময় তাঁর বাবা ঠেকাতে গেলে খোরশেদ তাঁর বাবার বাঁ কনুইয়ে ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে যান। পরে তাঁর বাবাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর খোরশেদ পালিয়ে যান।

আলিফ বলেন, তাঁর বাবাকে খুনের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে খোরশেদকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তাঁর দাদা খোরশেদকে পালিত পুত্র হিসেবে লালন–পালন করেছিলেন। তাঁকে যখন পালক এনেছিলেন, তখন তাঁর বাবা ও চাচাদের জন্ম হয়নি। অনেক আগে খোরশেদ তাঁর দাদার বুকেও ছুরি মেরেছিলেন। উগ্র আচরণ ও বেকারত্বের কারণে তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার আজ প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাব-৩–এর একটি দল খোরশেদকে মতিঝিল থানায় সোপর্দ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে বুলবুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। বিকেলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানেও হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন খোরশেদ। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় পুলিশ।