কারিগরি ত্রুটিতে জকসুর ভোট গণনা স্থগিত
কারিগরি ত্রুটির কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভোট গণনার স্থান কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জকসুর নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান এ তথ্য জানান।
আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা টেকনিক্যাল কারণে ভোট গণনা বন্ধ রেখেছি। আপনারা জানেন, প্রথম থেকেই আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। ভোটের গণনায় হান্ড্রেড পার্সেন্ট স্বচ্ছতা এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা দুটি মেশিন এখানে নিয়ে এসেছি। দুটি কোম্পানির।’
তিনি বলেন, ‘টেকনিক্যাল কারণে আমাদের এ ভোট গণনা আমরা এখন বন্ধ করেছি। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের যারা ভিপি ক্যান্ডিডেট আছেন এবং জিএস ক্যান্ডিডেট আছেন, উভয় প্যানেল এবং স্বতন্ত্র ভিপি ও জিএস ক্যান্ডিডেট, আপনাদের সঙ্গে আমরা বসব। আপনারা দয়া করে আমাদের সঙ্গে একটু শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে বসবেন। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
পরে তিনি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জায়গাটিকে সংশোধন করে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমের কথা বলেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার শহীদুল ইসলাম রাত নয়টার দিকে জানান, দুটি মেশিনে দুই রকম ফলাফল দিচ্ছে। দুটি মেশিনে যেন অভিন্ন রেজাল্ট আসে, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ সকাল নয়টায় শুরু হয়ে বেলা তিনটা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
সব কেন্দ্রের ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।