রাজধানীতে ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে বনায়ন শুরু করল ঢাকা উত্তর সিটি
ঢাকার বায়ু, পানি ও মাটিদূষণ কমিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
আজ সোমবার বিকেলে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় ৪ নম্বর সেতুসংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্ব পাশে সবুজায়নের নির্ধারিত এলাকায় গাছ লাগানোর মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতি হচ্ছে দ্রুত ঘন বন তৈরির একটি বিশেষ বনায়ন কৌশল। জাপানের উদ্ভিদবিজ্ঞানী আকিরা মিয়াওয়াকি এই পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। এ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় দেশি প্রজাতির অনেক ধরনের গাছ খুব ঘনভাবে লাগানো হয়। যাতে স্বাভাবিক বনের মতো পরিবেশ দ্রুত তৈরি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, গাছের উপকারিতা সবাই জানলেও নগরজীবনে এর বাস্তব প্রভাব অনুভব করার সুযোগ খুব কম। তিনি বলেন, এই বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিএনসিসি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে মানসিক স্বস্তি অনুভব করার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এমন সবুজ পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঢাকা উত্তর সিটি সূত্রে, এর আগে নগর বনায়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে চলতি বছর গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ১৪ হাজার গাছ লাগানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে আরও প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০ গাছ লাগানো হবে। এতে দেশি ফলদ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম, ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ থাকবে। আজ দ্বিতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ শুরু হয়।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এই বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন (প্রকৃতিবান্ধব নকশা) ও বায়োমিমিক্রি (প্রকৃতি অনুকরণ) নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেক পাড়ঘেঁষা হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাপানি ধারণা ‘শিনরিন ইয়োকু’ বা ‘বন স্নান’-এর অভিজ্ঞতা দিতে ঘন সবুজের ভেতর হাঁটার সুযোগও রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, এই বনভূমি ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে ৩৯ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম। ঢাকা উত্তর সিটির এ কার্যক্রমে বন অধিদপ্তর, শক্তি ফাউন্ডেশন, গ্রিন সেভার্স, গ্রিন ভয়েস, ব্রাইটার্স, ইউথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন ও যুব ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
বায়ুমান বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে টাস্কফোর্স সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও রওফা খানম। আর মিয়াওয়াকি বনায়ন, বায়োফিলিক ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন আরহাম উল হক চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএনসিসি আগামী ৫ বছরে ৫ লাখ গাছ লাগানোর কর্মপরিকল্পনা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে এ বছরই ৫০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।