পুরোনো বাস দিয়েই ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু

বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ১ নভেম্বরছবি: প্রথম আলো

রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে ৭৮০টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি রুটে শুধু নন-এসি এবং বাকি দুটি রুটে এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করবে।

বাস রুট রেশনালাইজেশনের মূল লক্ষ্য গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন হলেও শুরুতেই নতুন বাস নামানো সম্ভব হয়নি। পুরোনো বাস রং করে ছয়টি কোম্পানির অধীন পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, রাজধানীর যানজট ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও গণমাধ্যম—এই চার পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতা থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, নগরের যানজট ও বিশৃঙ্খলা শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করছে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব সারা দেশে পড়বে।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, বিশৃঙ্খলায় অল্প কিছু মানুষ লাভবান হলেও শৃঙ্খলার সুফল পান সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। তাই পরিবহন খাতের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা আর চলতে দেওয়া যায় না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের নির্ধারিত স্টপেজ থেকে বাসে ওঠানামা করতে হবে। এ জন্য তিনি যাত্রীদের সহযোগিতা চান। পাশাপাশি পরিবহনশ্রমিকদেরও নতুন নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান।

নতুন বাস কেনার জন্য সরকারের নীতিগত সহযোগিতা চেয়ে সাইফুল আলম বলেন, তাঁরা সরকারের কাছে ভর্তুকি চান না। বরং সরকারের সহযোগিতায় বাসের ব্যবস্থা করা হলে মালিকেরা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং মালিক সমিতির গ্যারান্টিতে বাস নিতে পারবেন। পুরোনো বাসগুলো পর্যায়ক্রমে নিজেরাই সরিয়ে ফেলবেন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন প্রমুখ।

ছয় রুটে যেসব বাস চলবে

ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে নন-এসি বাস চালাবে ভিআইপি পরিবহন বাস কোম্পানি। এ পথে দীর্ঘদিন ধরেই কোম্পানিটির বাস চলাচল করছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ রুটে গোলাপি রঙের বাস চালু করা হয়েছিল। তবে তাতে প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা ফেরেনি।

মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে বাস পরিচালনা করবে চিড়িয়াখানা সিটি বাস কোম্পানি। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা রুটে বাস চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ। এই দুটি কোম্পানির বাসও আগে থেকে ঢাকার সড়কে চলাচল করছে।

রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের অংশ হিসেবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ১ নভেম্বর
ছবি: প্রথম আলো

এ ছাড়া ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে বাস চালাবে ফোর স্টার বাস লাইন। ঘাটারচর থেকে উত্তরা রুটে বাস পরিচালনা করবে পিএনপি সিটি সার্ভিস। অন্যদিকে টঙ্গী থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটে এসি বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব রুটের কয়েকটিতে বর্তমানে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ভিআইপি, বিকাশ, দিশারী, তানজিল, মেট্রোলিংক, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, রজনীগন্ধ্যা, মালঞ্চ, সময়, মিডলাইন, পরিস্থান ও প্রজাপতি পরিবহন।

নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত কোম্পানির বাস ছাড়া অন্য কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ রাখা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ, যেসব রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হয়েছে, সেসব পথে আগে থেকেই একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করছে।