যমুনা ফিউচার পার্কে পিৎজা হাটের নতুন স্টোর নারী পরিচালিত

খাবার তৈরি করছেন নারী। ভোজনরসিকদের সুস্বাদু খাবার পরিবেশনও করছেন নারীরাই। এমনকি খাওয়া শেষে গ্রাহকদের কাছ থেকে যিনি বিল গ্রহণ করছেন, তিনিও নারী।

অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে পিৎজা হাট বাংলাদেশে। দেশের মধ্যে প্রথম নারীদের দ্বারা নিজেদের স্টোর পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল ৫-এ অবস্থিত ফুড কোর্টের পিৎজা হাটের স্টোরটি পরিচালনা করছেন নারীরাই।

সম্প্রতি বাংলাদেশের গ্রাহকদের অন্যতম প্রিয় এবং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড পিৎজা হাট নারীদের দ্বারা পরিচালিত স্টোরটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়।

‌‘স্টোর হ্যান্ডওভার’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অমিত থাপা, পিৎজা হাটের মার্কেটিং প্রধান ফারহান হাদিসহ অনেকে। এ সময় অমিত থাপা বলেন, নারীর কর্মশক্তিকে আরও ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘সবার জন্য সমান স্লাইস’ নিশ্চিত করার জন্য পিৎজা হাট বাংলাদেশে এই উদ্যোগ নিয়েছে। নারীরা এগিয়ে এলেই দেশ এগিয়ে যাবে। প্রথমবারের মতো নারীদের দ্বারা পরিচালিত স্টোর খোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এ আউটলেটে স্টোর ম্যানেজারসহ গ্রাহক পরিষেবা, দোকান পরিচালনা ও খাদ্য প্রস্তুতি—সবকিছু নারীদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

অমিত থাপা আরও বলেন, মহামারির কারণে গত দুই বছর পিৎজা হাটের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ বছর গুলশান-২-এ আমাদের ২০তম স্টোর খোলা হয়েছে এবং এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বছরের শেষ নাগাদ আরও কয়েকটি নতুন স্টোর খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পিৎজা হাটের স্টোরটিতে মোট ২২ জন নারী কাজ করছেন। এর মধ্যে খাবার প্রস্তুতের কাজে ১১ জন ও খাবার পরিবেশনের কাজে আছেন ৮ জন। বাকি ৩ জন স্টোর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদেরই একজন আইরিন আক্তার। তিনি ২০১১ সাল থেকে পিৎজা হাটের বিভিন্ন স্টোরে কাজ করেছেন। যমুনা ফিউচার পার্কের পিৎজা হাটের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে আইরিন বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই ভালো একটি অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জেরও। নারীরাও যে সব কাজ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ঠিকমতো করতে পারেন, এটি আমরা প্রমাণ করতে চাই।’

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড গ্লোবাল পিৎজা হাটের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে নারীদের সমান অধিকার এবং বৈচিত্র্যতা নিয়ে কাজ করছে। এই অর্জনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব পিৎজা হাটের গ্রাহকদের। পিৎজা হাটের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এবং আস্থা ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়। পিৎজা হাট সব সময় নিজস্ব ব্র্যান্ড ও কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য কাজ করে চায়। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে নারীদের দ্বারা পরিচালিত আরও স্টোর খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে নতুন কিছু করার এই উদ্যোগ অন্য নারীদের অনুপ্রাণিত করে উদাহরণ স্থাপন করবে।

যমুনা ফিউচার পার্কের পিৎজা হাটের স্টোরে পরিবার নিয়ে খেতে এসেছিলেন চাকরিজীবী ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘এ খাবারের দোকানটিতে সব নারী কাজ করছেন, তা দেখতেই ভালো লাগছে। কথা বলে জানলাম, অনেক শিক্ষার্থীও পিৎজা হাটে কাজ করছেন। একজন নারী যখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, তখন পরিবারও সুবিধা পাবে।’

স্টোরটির সহকারী ম্যানেজার শিরিন আক্তার বলেন, ‘যমুনা ফিউচার পার্কের পিৎজা হাটের স্টোরটি বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সব নারীই এখানে উদ্যম নিয়ে কাজ করেন। কর্মীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। আমাদের দেশের নারীদের জন্য এ পদক্ষেপ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

উল্লেখ্য, সারা দেশে ২০টি আউটলেটে ডাইন-ইন, টেক-অ্যাওয়ে এবং ডেলিভারির সেবা দিয়ে পিৎজা হাট বাংলাদেশের সব পিৎজা চেইনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পদচিহ্ন রেখেছে। অতুলনীয় মান ও ক্রমাগত নতুন স্টোর খোলার মাধ্যমে সব গ্রাহকের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ব্র্যান্ডটি।