‘মিট আপ’ গ্রুপের মাধ্যমে উগ্রবাদে সক্রিয় ১২ জনের রিমান্ড: সিটিটিসি

নাশকতার পরিকল্পনা ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে পৃথকভাবে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ১২ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত আজ শনিবার আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের (সিটিটিসি) পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ ১২ আসামিকে আদালতে হাজির করে তাঁদের সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। সিটিটিসি জানায়, আসামিরা সবাই হোয়াটসঅ্যাপে ‘মিট আপ’ গ্রুপের সদস্য। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে ও ফোনে ওই গ্রুপের বার্তায় উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের মসজিদে অভিযান চালায় সিটিটিসি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ২৩ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।

সিটিটিসির রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা মোবাইল ব্যবহার করে আসামিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল, সিম কার্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাইয়ের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ডে না দিয়ে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের আসামিরা হলেন শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), রাশ্মি মিয়া (২৯), কামিছুল ইসলাম (৩৬), সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওমি চৌধুরী (১৯),শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমেদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।

আরও পড়ুন

আসামিদের মধ্যে শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় ও সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় পুরোনো মামলা রয়েছে।

ডিএমপির সিটিটিসির পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, আটক ২৩ জনের মধ্যে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১২ আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। এই ১২ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা ও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। অন্যদের তেমন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁদের শেরেবাংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তথ্য যাচাই শেষে ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।