পুলিশ বলল, ‘প্রোগ্রাম হবে না, এটাই ফাইনাল’

জান্নাতুল ফেরদৌস নামের নেত্রীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে তামান্না ও রাজিয়ার বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের অন্য পক্ষের নেতা-কর্মীরা।
প্রথম আলো ফাইল ছবি

রাজধানীর ইডেন কলেজের সামনে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে ডাকা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আয়োজক বলছেন, পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। পুলিশ বলছে, অনুমতির জন্য আবেদন করলে তারা সেটা বিবেচনা করবে।

ইডেন কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তপনা থামানো ও (ইডেন কলেজের ঘটনায়) বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার দাবিতে এই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল, এদিকে ইডেন কলেজের ঘটনা তদন্তের জন্য আদালত থেকে মামলার কোনো কাগজপত্র আসেনি বলছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

ইডেন কলেজের ঘটনায় কলেজের সামনে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশ ডেকেছিলেন অভিভাবক ও নাগরিকদের একটি অংশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক রাখাল রাহা ছিলেন এর মূল আয়োজক, তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মসূচি ঘোষণার পর গতকাল বুধবার রাতে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমাকে ফোন করে বললেন যে কর্মসূচি করতে হলে তাঁদের অনুমতি নিতে হবে, আমি বলার চেষ্টা করলাম, ইডেন কলেজে অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদে সাধারণ অভিভাবক-নাগরিকেরা তো কথা বলবেনই। পুলিশের উচিত, এই কর্মসূচির নিরাপত্তা দেওয়ার আধঘণ্টা পরই তিনি আবার ফোন করে খুব স্ট্রিক্টলি (শক্তভাবে) বললেন, ‘প্রোগ্রাম হবে না, এটাই ফাইনাল, আপনারা এখানে প্রোগ্রাম করতে পারবেন না, এরপর আর কোনো কথা বলবেন না।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে ইডেনের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীরা ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনশনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ফাইল ছবি

রাখাল রাহা আরও বলেন, ‘পুলিশের নিষেধের পর আমরা নিজেরা আলাপ করে কর্মসূচিটা স্থগিত করলাম, কিছুটা বিরতি দিয়ে হলেও আমরা ইডেন কলেজের সামনেই কর্মসূচি করব, অনুমতির জন্য আমরা কোনো আবেদন করব না।’

আরও পড়ুন

লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মুর্শেদ প্রথম আলোর কাছে নিষেধ করার বিষয়টি স্বীকার করেন। আজ বিকেলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করতে পারেন। অনুমতির জন্য তাঁরা আবেদন করলে লালবাগ জোনের উপকমিশনার তা বিবেচনা করবেন।

ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে গত শনিবার রাত থেকে শুরু করে রোববার দিনভর উত্তপ্ত ছিল ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস। রোববার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন ওরফে রীভা, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় রোববার রাতে ইডেন কলেজ কমিটি স্থগিত ও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধীপক্ষের ১২ নেত্রীসহ ১৬ নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ইডেন কলেজে অস্থিরতা চলাকালে বহিষ্কৃত নেত্রী সামিয়া আক্তারসহ কয়েকজন অভিযোগ তোলেন, তামান্না ও রাজিয়া সাধারণ ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা গত মঙ্গলবার কলেজের ফটকে ‘অনৈতিক কাজে বাধ্য করার’ অভিযোগ তোলা ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন করেন। যদিও মানববন্ধনকারীদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল এবং তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

তদন্তের নির্দেশ থানায় আসেনি

চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি তামান্না জেসমিন ওরফে রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাসহ আটজনের বিরুদ্ধে গতকাল আদালতে মামলা করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মোস্তফা রেজা নূর মামলার অভিযোগ তদন্তের জন্য লালবাগ থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালবাগ থানার ওসি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালত থেকে মামলার কোনো কাগজপত্র এখনো আমাদের কাছে আসেনি।’