গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের প্রতিবাদে হারিকেন ও হাঁড়ি–পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ জাতীয় ছাত্রশক্তির
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে হারিকেন ও হাঁড়ি-পাতিল হাতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা–কর্মীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্রশক্তির নেতারা সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন, কত দিনের মধ্যে এই গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের সমাধান হবে?
সমাবেশ থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং সংকটের সমাধান না হলে তিতাসসহ সরকারি গ্যাস প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে তালা দেওয়া এবং অবরোধের ঘোষণা দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আজকে শুধু খুঁটি আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। আমরা যেন আবার ২০০২-২০০৪ সালের সময়ে ফিরে গেছি। গ্রামের মানুষদের কাছে খোঁজ নিলে জানা যাবে, ১২-১৩ ঘণ্টা পর একবার বিদ্যুৎ আসে, তা–ও এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি থাকে না। অথচ একই সময়ে মানুষের কাছে দ্বিগুণ-তিন গুণ বিদ্যুৎ বিল আসছে। এটি রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজি। সরকার তাদের দলীয় নেতা–কর্মীদের পকেট ভরানোর জন্য এবং তাদের ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো চালানোর জন্য জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করছে।’
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নেতা বলেন, ‘সরকার এই ফ্যামিলি কার্ডের শুধু জরিপ পরিচালনার জন্যই দলের নেতা–কর্মীদের পকেট ভরানোর উদ্দেশ্যে দুই হাজার কোটি টাকা অপচয় করছে। অথচ এই অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ।’
সরকার ভিন্নমত দমনের জন্য এনসিপির সমাবেশে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দা’ অবলম্বন করেছে অভিযোগ করে তাহমিদ আল মুদ্দাসসির বলেন, ‘তারা জানে, আমরাই মানুষের দুর্ভোগের কথা বলব এবং বিএনপির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলব। তাই তারা এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন সরকার বলেন, ‘একটি দেশের মন্ত্রী হওয়া যে কত বড় দায়িত্ব, বর্তমান মন্ত্রীরা সেটি বোঝেন বলে আমার মনে হয় না। কারণ, তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় পালিত গুন্ডা বাহিনী রয়েছে, যারা বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, সরকারি বাজারসহ নানা জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই মানুষকে মারধরের শিকার হতে হয়।’
সমাবেশে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আছিয়া আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের পাশাপাশি গুম, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং বিরোধী দল-মতের ওপর নির্বিচার হামলা করা হচ্ছে। যখনই আমরা সরকারের এই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলছি, আমাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, আমাদের ছেলেদের চোখ নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।’