দুর্নীতি দমন ও সততার সঙ্গে কাজের প্রতিশ্রুতি ঢাকার দুই সিটির প্রশাসকের

ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটিতে নিয়োগ পাওয়া দুই প্রশাসক একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাজধানীর জিয়া উদ্যান, ২৪ ফেব্রুয়ারিছবি: প্রথম আলো

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রশাসক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবেন বলে জানিয়েছেন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম খান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটিতে নিয়োগ পাওয়া এ দুই প্রশাসক একই সঙ্গে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নতুন এই দুই প্রশাসক সেখানেই গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, দুর্নীতি দমনের জন্য জিরো টলারেন্স থাকবেন। যদি কোথাও কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সামনের দিকে যাতে কোনো দুর্নীতি, কোনো অনাচার না হতে পারে, সেই চেষ্টাও থাকবে।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাস মোকাবিলা করাকে তাঁরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন। এ ছাড়া অতীতে বিভিন্ন করপোরেশন ঠিকঠাক কাজ করেনি। নগরে মশার যে সমস্যা, বলা চলে প্রতিটি মহানগরী অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। তাই মশাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে অর্পণ করা হবে।

তবে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনগুলোর একার দায়িত্ব নয়। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশন করতে পারবে না, যদি নাগরিকেরা সচেতন না হন।

এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, অনেক এলাকায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণ করে এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর যেখানে যেখানে অব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে তিনি তাঁর কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন বলেও জানান।

নেতা-কর্মীদের বিশৃঙ্খলা

বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে অপেক্ষায় থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নেতা–কর্মীদের ভিড়ের কারণে বেশ বেগ পেতে হয় ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম ও ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানকে। এ দুনজনকে ঘিরে তখন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ছিলেন। নেতা-কর্মীদের ঠেলাঠেলি আর ধাক্কাধাক্কিতে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে ঠিকমতো দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না প্রশাসকেরা।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথমে নেতা-কর্মীদের হাত দিয়ে ঠেলে ও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন অন্য পাশে প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে যাওয়া নেতা-কর্মীরা ঠেলে আবার সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। ফলে সরিয়ে দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না।

নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে আবদুস সালামও তাঁর দিকে থাকা নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুটা বকাঝকাও করেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তিনি ভিড় করা নেতা-কর্মীদের দিকে মারমুখীও হন। তখন নেতা-কর্মীদের অনেকে একে অপরের সঙ্গে হাত ধরে পেছনের ভিড় ও চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই দুই প্রশাসককে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে হয়।

আরও পড়ুন