বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় বেপরোয়া গতির এলাইক পরিবহনের একটি বাস ফাতেমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পা পিষে দেয়। বাসচাপায় তাঁর কোমর ও পায়ের হাড় কয়েক টুকরা হয়ে গেছে। একজন পথচারী তাঁকে উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতালে) ভর্তি করেন।  

চিকিৎসকেরা বলেছেন, ফাতেমার শারীরিক বিপর্যয় (শক) অবস্থা কেটে গেছে। তবে তাঁর সেরে উঠতে অনেক দিন লাগবে।

এ ঘটনার পর স্বজনেরা ফাতেমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ফাতেমা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেসরকারি শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। ওই কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর তিনি সেখানেই ইন্টার্নশিপ করছেন।

শিক্ষানবিশ এ চিকিৎসকের ভগ্নিপতি সাদ্দাম হোসেন পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাসের চাপায় ফাতেমার রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাঁর কিডনি কাজ করছিল না। রক্তচাপও কমে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাসেও বিঘ্ন হচ্ছিল। এতে তিনি শকে যান।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে ফাতেমার অবস্থার উন্নতি ঘটতে থাকে। তাঁর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

ফাতেমার বাবা আবুল কাশেম পেশায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তিনি আজ বিকেলে মেয়ের জন্য সবার দোয়া চান।

আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ফাতেমার ভাঙা পায়ে টানা দিয়ে (ট্র্যাকশন) রাখা হয়েছে। ফাতেমাকে তত্ত্বাবধানকারী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফাতেমার ভাঙাস্থলগুলো ধীরে ধীরে জোড়া লেগে যাবে। বাস ফাতেমার পায়ের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়ায় তাঁর পায়ের পেশি খসে পড়েছে। পরে শরীরের অন্য স্থান থেকে পেশি এনে সেখানে প্রতিস্থাপন করবেন প্লাস্টিক সার্জনরা।

এদিকে ফাতেমাকে চাপা দেওয়া এলাইক পরিবহনের বাসচালক মো. শরীফকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আটক বাসচালক শরীফকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। আর এলাইক পরিবহনের বাসটি জব্দ করে থানা চত্বরে রাখা হয়েছে।