অবশেষে সার্জেন্টের মামলা নিল পুলিশ

হাসপাতালের শয্যায় দুর্ঘটনায় পা হারানো মনোরঞ্জন হাজং, তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাবা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে নারী সার্জেন্টের বাবাকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় দুই সপ্তাহ পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার চালকসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা হয়। পুলিশ বলছে, আগের লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে মামলা নেওয়া হয়েছে।

বাবাকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় ১১ ডিসেম্বর পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং বনানী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ গ্রহণ না করার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত মামলা নেওয়ার দাবি জানায় হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের চেয়ারম্যান বাড়ি ইউটার্নে দ্রুতগতির ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজং। দুর্ঘটনার পর অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়। এখন রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন বিজিবির সাবেক এই হাবিলদার। ঘটনার পর মামলা করার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে কর্মরত এই নারী কর্মকর্তা।

মামলার বাদী মহুয়া হাজং আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মামলায় আসামিদের নাম কেন উল্লেখ করেননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বনানী থানা–পুলিশ জানে না কে আমার বাবাকে গাড়িচাপা দিয়েছে।’

আরও পড়ুন

গতকাল বুধবার মহুয়া হাজং আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এজাহার কয়েকবার পাল্টাতে হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম কেটে অজ্ঞাতনামা লিখতে হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামসহ এজাহার দেখে থানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, আমার বয়স কম, তাই ঘটনা বুঝতে পারছি না। তাঁরা আমাকে এজাহার লেখা শিখিয়েছেন। ১১ ডিসেম্বর এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা লেখার পর থানায় এজাহার রেখে আসতে বলেছেন।’

মামলার এজাহারে মহুয়া হাজং অভিযোগ করেছেন, ঢাকা মেট্রো ঘ–১৫–৪৯০৬ নম্বরের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক অপর দুই সহযোগীর কথায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে আমার বাবার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেন। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর জখমসহ হাড় ও মাংস থেঁতলে যায়। বাঁ পায়ের ঊরুর হাড় ভেঙে যায়।

আজ বারডেম হাসপাতালে আইসিইউয়ের পাশে কথা হয় মনোরঞ্জন হাজংয়ের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় হাজংয়ের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন,‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন