উত্তরায় ৩০০ শয্যার কোভিড হাসপাতালের যাত্রা শুরু, রোগী ভর্তি কাল

কোভিড হাসপাতাল হিসেবে রাজধানীর উত্তরায় ৩০০ শয্যার জাপান-ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য–শিক্ষাসচিব আলী নূর, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের এম এ মুবিন খান প্রমুখ।
জাপান-ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি উদ্বোধন করার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জাপান সব সময় কোয়ালিটি রক্ষা করে। জাপান-ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও কোয়ালিটি সার্ভিস ও কোয়ালিটি চিকিৎসা নিশ্চিত করবে”।’
চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। আগামীকাল রোববার থেকে রোগীদের ভর্তির কার্যক্রম শুরু হবে। আর আমাদের হাসপাতালে নিজস্ব পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮০টি করোনার নমুনার পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। ২৪ ঘণ্টা আমাদের হাসপাতালে পরামর্শক চিকিৎসক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।’
হাসপাতালটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, এই কোভিড হাসপাতালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সার্বক্ষণিক রোগীর বর্তমান অবস্থা স্বজনেরা অনলাইনের মাধ্যমে জানতে পারবেন। আর কৃত্রিমভাবে নেগেটিভ প্রেশার তৈরির মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
হাসপাতালটি বাংলাদেশ ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, জাপানের গ্রিন হাসপাতাল সাপ্লাই এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।
চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) জাপান-ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অংশীদার। আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন জাপানি চিকিৎসকেরা। কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
জাপান-ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, কোভিডে আক্রান্ত চিকিৎসকদের চিকিৎসার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবে প্রতিষ্ঠানটি। চিকিৎসকদের জন্য ২০টি শয্যা বরাদ্দ থাকবে। হাসপাতালটিতে ৩০০ শয্যার মধ্যে ২৪টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থাকবে। আর আইসোলেশন বেড থাকবে মোট ৩৬টি।
কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের মলমূত্র থেকে অন্যান্য বর্জ্য শোধনের জন্য বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) তৈরি করা হয়েছে বলে জানালেন হাসপাতালটির এমডি চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ‘কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য শোধনের জন্য ইটিপি-এসটিপি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’