উড়াল সড়ক থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার

সুভাষ চন্দ্র সূত্রধর

রাজধানীর খিলক্ষেতের কুড়িল উড়ালসড়ক থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় এক দুবাইপ্রবাসীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম সুভাষ চন্দ্র সূত্রধর (৩৬)। সুভাষ বগুড়ার বাড়ি থেকে দুবাই যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে ঢাকায় রওনা হয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্বজনেরা ধারণা করছে, সুভাষকে হত্যা করে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।

খিলক্ষেত থানার পুলিশ জানায়, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে টহল পুলিশ খিলক্ষেত উড়ালসড়কে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তাঁর কপাল থেকে রক্ত বের হচ্ছিল ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট থেকে পুলিশ সুভাষের পরিচয় জানতে পারে। এ সময় সুভাষের পকেটে কাগজে থাকা মুঠোফোন নম্বরে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে তাঁর ভায়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। সুভাষের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বড় নারায়ণপুরে।

সুভাষের ভায়রা কৃষ্ণ সূত্রধর প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ১৩ নভেম্বর সুভাষ ছুটিতে দেশে আসেন। তিনি ২১ নভেম্বর বিয়ে করেন। ছুটি শেষে আগামী শনিবার মধ্যরাতে তাঁর দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। করোনার পরীক্ষা করাতে গতকাল সন্ধ্যায় বগুড়া থেকে সুভাষ একটি মাইক্রোবাসে ঢাকায় রওনা দেন। তাঁর সঙ্গে বিমানের টিকিটের টাকাসহ মোট ৬৫ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন ছিল। কিন্তু সেগুলো পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে, ওই মাইক্রোবাসে গলায় গামছা পেঁচিয়ে সুভাষকে হত্যা করে তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে উড়ালসড়কে ফেলে দিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

কৃষ্ণ জানান, গতকাল রাতে সুভাষ বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে মুঠোফোনে তাঁর স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। লাশটি বিমানবন্দর সড়ক থেকে ওঠা উড়াল সড়কের এক পাশে পড়ে ছিল।

সুভাষের তিন ভাই দুবাইপ্রবাসী। পাঁচ বছর তিনি দুবাইয়ে ছিলেন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সুভাষ সবার ছোট।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী ছাব্বীর আহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, সুভাষের এক চাচা গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে শিবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়ে যান। এরপর সুভাষ কীভাবে ঢাকায় এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা টাকা ও মুঠোফোন খোয়া যাওয়ায় সন্দেহ করা হচ্ছে হয়তো ছিনতাইকারীরা তাঁকে হত্যা করে টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে।