কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনের দাবি

নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আমাদের দেশের নারী শ্রমিকেরা নানাভাবে শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারী-পুরুষের সম্মিলিত শ্রম ও মেধায় মানবসভ্যতা গড়ে উঠলেও শ্রম অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য নারীসমাজকে এখানে লড়াই করতে হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০ বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলওর ১০৮তম শ্রম সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৯০ গৃহীত হয়। নারীসমাজের ওপর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে নারী শ্রমিকেরা গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনের আওতায় আনা, কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি অশালীন আচরণ বন্ধ, ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাহিদা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ সামসুন্নাহার ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে, সব বাধা পেরিয়েই নারীরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, দপ্তর সম্পাদক সায়েরা খাতুন, মোহাম্মদপুর থানা কমিটির সভাপতি হুমায়রা বেগম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নারী শ্রমিকনেত্রী জাহানারা বেগম।

মানববন্ধনে শেষে সংগঠনের নেতা-কর্মী ও নারী শ্রমিকেরা একটি মিছিল বের করেন।