হাতিরঝিলে হত্যাকাণ্ড
খুনের আসামিকে বাঁচাতে টাকা নিলেন এএসআই
থানা-পুলিশকে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করেছে প্রতারক চক্র। চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার।
ঘটেছে খুনের ঘটনা। তা-ও প্রকাশ্যে। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখানো হবে স্বাভাবিক মৃত্যু। অভিযোগপত্রেও অব্যাহতি দেওয়া হবে আসামিকে। এ জন্য থানা-পুলিশকে দিতে হবে দেড় লাখ টাকা। এমন প্রলোভন দেখিয়ে হত্যা মামলার আসামির পরিবারের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। অথচ হাতিরঝিল থানা-পুলিশ এসবের কিছুই জানে না।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাজ্জাদ হোসেন এই প্রতারক চক্রের নেতৃত্বে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার তাঁকে, কথিত সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন ও মিজানুর রহমান নামে তাঁদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই দিনই এ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট বাড়ির ফটক খোলাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হাতিরঝিলের উলন রোডে খুন হন কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার পর একমাত্র আসামি কাজী জিকু পালিয়ে যান। ৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী থেকে জিকুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জিকু অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বদল ও খুনকে স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে দেখাতে তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তারের কাছ থেকে এএসআই সাজ্জাদ ও সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাতিরঝিল লেক পাড়ে ৮০ হাজার টাকা সাজ্জাদ ও নিজাম উদ্দিনের হাতে তুলে দেন রোকসানা আক্তার। সাজ্জাদ ও নিজামের সঙ্গে কাজল নামের আরেক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের কর্মচারী বলে পরিচয় দেন। পরদিন হাসপাতালের সামনে নিজামকে আরও ৭০ হাজার টাকা দেন রোকসানা। পরে ওই তিনজন দেড় লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।
এ ব্যাপারে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিকু নানা কৌশলে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গত বছর বরিশালগামী এক লঞ্চ থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ আদায়ের ঘটনায় এএসআই সাজ্জাদকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গরু ব্যবসায়ী সেজে আত্মগোপন
পুলিশ বলেছে, খুনের ঘটনার পর জিকু বিভিন্ন সময় কক্সবাজার, সিলেট, রাজবাড়ী ও রাজশাহীতে আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ রাজশাহীতে গরু ব্যবসায়ী সেজে থাকছিলেন।
পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, জিকুকে ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গরু ব্যবসায়ী পরিচয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানের পরিকল্পনা করছিলেন।