গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করে ডাউন শিশুর ঝুঁকি নির্ণয় করা যায়

গর্ভাবস্থায় ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহে জেনেটিক আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে ডাউন শিশু জন্মানোর ঝুঁকি নির্ণয় করা যায়। অধিক ঝুঁকি থাকলে অনাগত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করে ডাউন শিশু কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়। এ সময় বাচ্চার আকার থাকে দেড়/দুই ইঞ্চি। কাজেই গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস উপলক্ষে গত রোববার আয়োজিত সেমিনারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ডাউন সিনড্রোম অ্যাসোসিয়েশন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রথম এই জাতীয় বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ ইউনুস আলী সরকার। আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ডিএনএ বিশেষজ্ঞ শরীফ আখতারুজ্জামান।
সেমিনারে রেজাউল করিম দেশে প্রথমবারের মতো গর্ভাবস্থায় ৩৫৫টি শিশুর ডিএনএ সংগ্রহ পদ্ধতি ও ফলাফল প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় দিন দিন দেশে ডাউন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। বেশির ভাগ ডাউন শিশুর জন্মগত হার্টের সমস্যা থাকে বলে অনেক শিশু জন্মের পর মারা যায়, যা নবজাতকের মৃত্যু হার বাড়ায়। বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ডাউন শিশুর জন্ম হয়। ডাউন শিশুরা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে সমাজ ও সংসারে বোঝা হয়ে বেঁচে থাকে।
শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গর্ভের শিশুর ডিএনএ পরীক্ষার সব সুযোগ–সুবিধা এখন দেশেই রয়েছে। দেশে প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞরা ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহে গর্ভের বাচ্চার চারপাশের “অ্যামনিওটিক ফ্লুইড” অথবা “করিওনিক ভিলাস” সংগ্রহ করে আমাদের ল্যাবরেটরিতে পাঠালে আমরা ডাউন সিনড্রোমসহ জেনেটিক রোগ নির্ণয় করতে পারি।’
প্রধান অতিথি ইউনুস আলী সরকার বলেন, সুস্থ প্রজন্ম তৈরি করতে হলে ডাউন সিনড্রোম বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ অতিথি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, এই হাসপাতালকে তিনি ডাউন সিনড্রোম রিসোর্স সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলবেন।
সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ডাউন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিজ্ঞপ্তি।