যানজট নিরসনে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার কোথাও ট্রাক দাঁড়াবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্যে তেজগাঁওয়ে রেলওয়ের জায়গার অবৈধ স্থাপনা না সরালে ৮ নভেম্বর সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
গতকাল রোববার তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের এক আলোচনা সভায় আনিসুল হক বক্তব্য দেন।
মেয়র বলেন, ‘তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের আশপাশে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও পিডব্লিউডির জায়গা না ছাড়লে জোর করে তুলে দেওয়া হবে। রাস্তার ওপর এভাবে ডাবল-ডাবল ট্রাক চলবে না। এই এলাকায় পাঁচ শ ট্রাকের কারণে প্রতিদিন ৫০ লাখ মানুষের গালি খেতে হয়।’
আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের একটা ভালো ট্রাক টার্মিনাল অবশ্যই প্রয়োজন। আমার মনে হয়, এটার জন্য আরও বড় জায়গায় প্রয়োজন। সেটার জন্য আসুন আমরা সবাই মিলে কাজ করি।’
তিনি সাতরাস্তা মোড়-কারওয়ান বাজারের রেল ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দিনে-রাতে এই রাস্তার কোথাও আমরা ট্রাক রাখব না। সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ হতে পারে না। সরকার যদি চায়, তাহলে কোনো কিছু রাস্তার ওপর দাঁড়াতে পারবে না। কারও ওপর আমাদের যেন জোর করতে না হয়। ৭ তারিখের মধ্যে এই এলাকাটা আপনারা ছেড়ে দেবেন। এখনো আমি অনেক ট্রাক দেখছি। আজকে আমরা অঙ্গীকার করছি, ৮ তারিখ থেকে তেজগাঁওয়ের কোনোখানে কোনো ট্রাক দিনে-রাতে দাঁড়াবে না। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব, অসাধ্য কিছু নাই।’
মেয়র বলেন, যানজট নিরসনে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে হাতিরঝিলের কাছে মগবাজার মোড় পর্যন্ত কোনো ‘ডানে মোড়’ থাকবে না।
আলোচনা সভায় রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ভেতরে যদি খালি জায়গা পাওয়া যায়, তাহলে রাস্তার ওপর ট্রাক রাখার প্রয়োজন পড়বে না। ভেতরেই জায়গা হয়ে যাবে। স্থায়ী টার্মিনাল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিক।
রেলপথমন্ত্রী উপস্থিত ট্রাক মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমানে রেলের ৪৮টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি চলমান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ভবিষ্যতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেলের পথকে ফোর লেন করা হবে। যখন এই কাজ শুরু হবে, তখন ট্রাকস্ট্যান্ডের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে মেয়র আনিসুল হক এখন যেভাবে চাইছেন, সেটাতে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি মকবুল আহমেদ বলেন, ‘এই ট্রাকস্ট্যান্ড পাকিস্তান আমলের। বঙ্গবন্ধু এই ট্রাক টার্মিনাল উদ্বোধন করেছেন। এটা সরাতে হলে আমাদের আগে পুনর্বাসন করতে হবে।’
ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান বলেন, ‘এখান থেকে সরালে আমরা কোথায় দাঁড়াব, সেটার ব্যবস্থা করতে হবে।’