বিউটি পারলারে ঈদের চিরচেনা আমেজ নেই
নারী উদ্যোক্তা আফরোজা খান ঈদ সামনে রেখেই চুলের পরিচর্যা করতে এসেছেন রাজধানীর ধানমন্ডির ফারজানা শাকিল’স মেকওভার সেলুন লিমিটেডে। তিনি বললেন, করোনার ভয় তো আছেই। তারপরও তুলনামূলক এ পারলারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো।
আফরোজা খান আরও বলেন, পারলারে ঢোকার আগেই সুরক্ষিত পোশাক পরা কর্মীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্প্রে করছেন। শরীরের তাপমাত্রা মাপছেন। যিনি সেবা নিতে আসছেন, তাঁকে খাতায় নিজের নাম, ফোন নম্বর ও শরীরের তাপমাত্রা কত, তা–ও লিখতে হচ্ছে। কারও শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাঁকে আর ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে ফারজানা শাকিল’স মেকওভার সেলুনে আফরোজা খানের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ সময় দেখা যায়, পারলারের কর্মীরাও সবাই সুরক্ষিত পোশাক পরে আছেন। তবে যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই সেবা নিতে আসা নারীদের সংখ্যা একেবারেই কম। একে কোনোভাবেই ঈদের আগের চিত্র বলা যায় না। প্রতিবেদক শরীরের তাপমাত্রা মেপে নাম ও ফোন নম্বর লিখে যখন পারলারের ভেতরে কথা বলতে যান, তখন সিরিয়াল নম্বর ছিল ১৬৮। অর্থাৎ, সকাল ১০টা থেকে তখন পর্যন্ত সেবা নিতে (প্রতিবেদক ছাড়া) ভেতরে ঢুকেছেন ১৬৭ জন।
ধানমন্ডির ফারজানা শাকিল’স মেকওভার স্যালুনের সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক ফাতেমা ইসলাম বললেন, ‘গত বছর করোনায় ব্যবসা হয়নি। এবারও একই অবস্থা। আগে ইফতার পার্টিসহ বিভিন্ন পার্টিতে যাওয়ার আগে নারীরা সাজগোজ করতে পারলারে আসতেন। এখন তো সামাজিক অনুষ্ঠানই নেই। মানুষের মনে করোনার ভয়। সেবা নিতে আসা নারীদের সংখ্যা কম থাকায় স্পা করার বিভাগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডির পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি পারলারটিতে অবশ্য ভিড় একটু বেশি দেখা গেল। তারপরও সেখানে কর্মরতরা বলছেন, করোনার আগে ঈদের সময় অন্য কারও সঙ্গে দুদণ্ড কথা বলারও উপায় থাকত না। এখন আর সে পরিস্থিতি নেই।
রাজধানীর বনানীর মেকওভার ফিনেস মেকআপ স্টুডিও অ্যান্ড সেলুনের প্রতিষ্ঠাতা মেকআপ আর্টিস্ট ফারহানা চৈতী বললেন, ঈদেও তাঁরা সেলুনে ভিড় বাড়তে দিচ্ছেন না। যাঁরা সেবা নিতে চান, তাঁদের সেলুনে কোন সময়টা ফাঁকা আছে, সেই সময়ে আসতে বলা হচ্ছে। কেননা, করোনার এই সময়ে টিকে থাকতে হবে এবং ব্যবসাটা চালিয়ে নিতে হবে।
রাজধানীর অলিগলিতে অনেক বিউটি পারলারের দেখা মেলে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে সচেতন নারীরা প্রতিষ্ঠিত পারলার ছাড়া অলিগলির পারলারে তেমন একটা যেতে চান না।
বিউটি পারলারে কর্মরত নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান উজ্জ্বলার এক জরিপে বলা হয়, গত বছর করোনা আঘাত হানার ছয় মাসের মধ্যে বিউটি পারলার খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী কাজ হারিয়েছেন। বিউটি পারলারের ব্যবসা সংকুচিত হয়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিউটি পারলারগুলোতে নারীরা সরাসরি যেতে ভয় পাচ্ছেন। তাই অনেকে অ্যাপ এবং কলসেন্টারের মাধ্যমে ঘরে বসেই পারলারের সব সেবা নিচ্ছেন। পাঁচ বছর ধরে রাজধানীতে এ ধরনের সেবা দিচ্ছে সেবা ডট এক্সওয়াইজেড। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইলমুল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ঘরে বসে সেবা নেওয়া নারীর সংখ্যা বেড়েছে। ৬০ জনের বেশি বিউটিশিয়ান বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সেবা দিচ্ছেন।
পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটির প্রতিষ্ঠাতা কানিজ আলমাস খান বলেন, বিউটি পারলার থেকে কাজ হারানো অনেক নারী নিজেরাই এককভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিচ্ছেন। তবে যে যেভাবেই টিকে থাকার চেষ্টা করুক, টিকে থাকাটা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে।