ভবিষ্যতের জন্য সব সময় প্রস্তুত থেকেছেন তিনি: আমীরা হক

স্যার ফজলে হাসান আবেদ। প্রথম আলো ফাইল ছবি
স্যার ফজলে হাসান আবেদ। প্রথম আলো ফাইল ছবি

ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ফজলে হাসান আবেদ সব সময় প্রস্তুত থেকেছেন। তিনি ছিলেন প্রবল বাস্তববোধসম্পন্ন দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের অধিকারী। এই চূড়ান্ত মুহূর্তটির জন্য আমাদের তিনি সর্বতোভাবে প্রস্তুত করে গেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সুনিপুণ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্র্যাকের নেতৃত্বের সুষ্ঠু পালাবদল সম্পন্ন করেছেন। ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ার আমীরা হক গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফজলে হাসান আবেদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল ব্র্যাক, ব্র্যাকের কর্মী এবং যাঁদের নিয়ে ব্র্যাক কাজ করে সেই সব মানুষের প্রতি। তিনি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে কর্মীদের কোনোভাবেই বিচলিত করতে চাননি। যত দিন সম্ভব এবং যতটা সহজভাবে সম্ভব, তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে চেয়েছেন। এমনকি, গুরুতর শারীরিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি যথাসম্ভব অফিসে আসতে চেষ্টা করেছেন। ব্র্যাকের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল চূড়ান্ত করার কাজে সময় দিয়েছেন। ব্র্যাকের বৈশ্বিক পরিচালন কাঠামোর পরিকল্পনা করেছেন। ‘ওয়ান ব্র্যাক’ পরিচয়ে আমাদের কাজের প্রভাব কীভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য দিকনির্দেশনা প্রস্তুত করেছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্যও সময় দিয়েছেন।

আমীরা হক বলেন, ফজলে হাসান আবেদের আত্মনিবেদন, কর্মনিষ্ঠা এবং সুদৃঢ় নৈতিক অবস্থান তাঁকে ব্র্যাক পরিবারের সর্বশ্রদ্ধেয় ‘আবেদ ভাই’ করে তুলেছে। মানুষকে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি ছিল তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সততা, বিনয় এবং মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। তাঁর এসব গুণই ব্র্যাকের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার ভিত্তি রচনা করেছে।

ফজলে হাসান আবেদ এমনভাবে ব্র্যাককে গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন, যাতে তা কখনোই ব্যক্তিনির্ভর কোনো প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি। বরং বহু মানুষের সমন্বিত শক্তিই ব্র্যাকের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। কর্মীদের ওপর ছিল তাঁর অগাধ আস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্র্যাকের নিবেদিত কর্মী দল তাঁর স্বপ্নের সেই পৃথিবী গড়ে তুলবে, যেখানে সব মানুষ তার সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পাবে। যে মূল্যবোধ তিনি আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন, তা আমাদের জন্য ভবিষ্যতের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।

 বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৬ বছর বয়সে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছিলেন। সেই দিন থেকে শুধু তাঁর নিজের জীবন নয়, পৃথিবীজুড়ে লাখো–কোটি মানুষের মধ্যে নিজেদের জীবন বদলে ফেলার বিশ্বাস তিনি জাগিয়ে তুলেছেন। তাঁর মৃত্যু পুরো ব্র্যাক পরিবারকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, সামনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে মর্যাদাবোধ, সাহস আর সহানুভূতির দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, সেই প্রেরণা নিয়ে তাঁর অসম্পূর্ণ কাজগুলো আমাদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

স্যার ফজলে হাসান আবেদের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে। নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্র্যাক পরিবারের প্রতিটি সদস্য তাঁর উত্তরাধিকারকে বহন করে নিয়ে যাবে, এই আমাদের অঙ্গীকার।