মুরাদ হাসানকে আ.লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রীদের

মুরাদ হাসানের পদত্যাগের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে সোমবার রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ছাত্রীরা। ৬ ডিসেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশকে স্বাগত জানিছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেত্রীরা। একই সঙ্গে মুরাদ হাসানকে আওয়ামী লীগেও রাখা উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।  

অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ওঠায় গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন মুরাদ হাসান।  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাঁকে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে ‘অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করতে শোনা যায়। মুরাদ হাসানের ওই বক্তব্যের সমালোচনায় সোচ্চার হন নারী অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে মুরাদ হাসানকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি ওঠে।

ওই ভিডিওতে মুরাদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রোকেয়া হল ও শামসুন নাহার হলের সাবেক ছাত্রনেতাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এই খবর পাওয়ার পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানিয়ে হলের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা এতে নেতৃত্ব দেন।

জিয়াসমিন শান্তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বেও আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলার মশাল যত দিন শেখ হাসিনার হাতে থাকবে, তত দিন এ দেশের নারীরা সুরক্ষিত। অন্যায়কারী যিনিই হোন, তাঁর কোনো ক্ষমা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নেই৷ মুরাদ হাসানের বিষয়টি সবাইকে একটি বার্তা দিয়েছে, সবার মুখে ও স্বভাবে লাগাম টেনে চলা উচিত৷’

মুরাদ হাসানকে একজন ‘অযোগ্য লোক’ বলে আখ্যা দেন রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘মুরাদ হাসান শুধু রোকেয়া ও শামসুন নাহার হল নিয়েই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাতনিকে নিয়েও বাজে কথা বলেছেন। একজন নারী হিসেবে আমি তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। তাঁর পদত্যাগের নির্দেশকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভালো সিদ্ধান্ত। এমন অযোগ্য একজন লোককে আওয়ামী লীগেও রাখা উচিত নয়।’

ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মুরাদ হাসানের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শ্রাবণী ইসলাম।