রাজধানীতে চিরচেনা যানজট, তবু যাত্রীদের স্বস্তি

বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন
ছবি: আব্দুল্লাহ আল হোসাইন

দীর্ঘ এক মাস পর সারা দেশে খুলে দেওয়া হয়েছে গণপরিবহন। ঢাকায় ফিরেছে চিরচেনা যানজট। অন্যান্য পরিবহনের মতো চলছে বিভিন্ন রুটের বাস। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

আজ সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রচণ্ড যানজট, যা মাঝে এক মাস প্রায় অনুপস্থিত ছিল। কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয় লেনেই যানজটে গাড়ি আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বাসের পাশাপাশি বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে যাত্রীদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলও। যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকও।

গণপরিবহন চালু হওয়ায় যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গণপরিবহনের মালিক, চালক ও শ্রমিকেরা।

৫ এপ্রিল লকডাউন শুরুর পর ব্যক্তিগত পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। যদিও ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঠিকই চলেছে। অনেক অফিসও খোলা ছিল। বন্ধ ছিল শুধু বাস।

কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট, পুরো রাস্তায় যানজট
ছবি: আব্দুল্লাহ আল হোসাইন

গণপরিবহন খোলার পর হঠাৎ ঢাকার রাস্তায় মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। গণপরিবহন চলার পরও মানুষকে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যানজটের কারণে অনেকে কর্মস্থলে পৌঁছেছেন দেরিতে।

জামাল উদ্দিন চাকরি করেন কারওয়ান বাজারের পেট্রোবাংলায়। তিনি মোহাম্মদপুরে স্বাধীন পরিবহনে জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের একটি সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩০-৩৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো বাসে উঠতে পারিনি।’

তবে এ জন্য তিনি ক্ষুব্ধ নন, বরং বাসে যেতে পারবেন ভেবে খুশি। তিনি বলেন, ‘এত দিন রিকশায় অফিসে যেতাম। যেতেই ১৫০ টাকা লাগত। এখন ২০-২৫ টাকায় যেতে পারব। এটা ভেবেই ভালো লাগছে।’

জাকি আহমেদ চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনিও মোহাম্মদপুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসের জন্য। তিনি বলেন, ‘এত দিন হেঁটে, রিকশায় অফিসে গিয়েছি। অফিস সব সময় পরিবহন সেবা দেয়নি। এখন একটু যাতায়াতে স্বস্তি হবে। হেঁটে যেতে হবে না।’

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকার গাবতলীতে রাস্তায় নেমেছিল পরিবহন শ্রমিকেরা। সংবাদ সম্মেলন করে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। দীর্ঘদিন পর আয়-রোজগারের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা।

মোহাম্মদপুরে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল
ছবি: আব্দুল্লাহ আল হোসাইন

স্বাধীন পরিবহনের একজন চালক আল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে যে টাকা জমিয়েছিলাম, মাঝের এক মাসে সব শেষ হয়ে গেছে। চিন্তায় ছিলাম এরপর কী হবে। এখন আমি খুশি।’

মোহাম্মদ শাহীন নামের পালকি পরিবহনের একজন চালকের সহকারী বলেন, ‘বেকার ছিলাম মাঝে। ঈদের আগে একটু আশা পেলাম। পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে ঈদটা করা যাবে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানোর কথা বলেছিল। সরকারও নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল। বাসেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা গেছে। বাসগুলো আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলছেন।

হানিফ নামের রবরব পরিবহনের চালকের এক সহকারী বলেন, মাস্ক ছাড়া কাউকে উঠতে দিচ্ছেন না। যাত্রীরাও এ ক্ষেত্রে খুব সচেতন। কাউকে আলাদা করে মাস্ক পরতে বলতে হচ্ছে না।

ব্যতিক্রম শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, যাত্রী যাচ্ছে গাদাগাদি করে।