শিবপুরে পিটুনিতে আহত ছাত্রের মৃত্যু

জিহান মিয়া
জিহান মিয়া

নরসিংদীর শিবপুরে ঈদের দিন সন্ধ্যায় জিহান মিয়া (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার সাত দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে।
নিহত জিহানের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিহান মনোহরদী উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের গাছুয়ারকান্দা গ্রামের প্রবাসী মোস্তফা কামাল ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিনা বেগমের ছোট ছেলে। সে স্থানীয় শাহাবউদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুদের সঙ্গে ভৈরব ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় বেড়াতে যায়। বেড়ানো শেষে সেখান থেকে বাসে করে বাড়ির উদ্দেশে আসার পথে শিবপুর উপজেলার সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে এসে গাড়ির চালক তাদের নামিয়ে দেন। গন্তব্যস্থানে পৌঁছার আগেই গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ায় বাসচালকের সহকারীর সঙ্গে জিহান ও তার বন্ধুদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে চালকের সহকারী ও স্থানীয় মোহরপাড়া গ্রামের রবিন মিয়া, হাবিবুল্লাহ মিয়া, মেহেদী হাসান ও শাকিল আহমেদ এবং দোপাত্তর গ্রামের হাসেম মিয়া গাছের ডাল নিয়ে জিহান ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা করে। জিহানের বন্ধুরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও তারা জিহানকে ধরে ফেলে এবং বেদম মারপিট করে। পরে স্থানীয় লোকজন জিহানকে উদ্ধার করে প্রথমে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে দ্রুত সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার সিটি স্ক্যান করে মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দেন। অস্ত্রোপচারের জন্য সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঈদের পরদিন শুক্রবার সকালে সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়। সাত দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সে মারা যায়।
এদিকে গত রোববার সন্ধ্যায় জিহানের মা সেলিনা বেগম শিবপুর মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সেলিনা বেগম বলেন, ‘ছেলের ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবে। মেধাও ছিল। পরিশ্রমও করে আসছিল। কিন্তু বিনা কারণে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তার বাবা বিদেশে, আমি কী জবাব দেব তাঁকে। কোথা থেকে তাঁর সন্তানকে ফেরত দেব আমি।’
শাহাবউদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জিহান অষ্টম শ্রেণিতে আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এর আগে সে শুকুন্দি নাজিমউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে তার মেধার স্বাক্ষর রেখে আমাদের সকলের কাছে প্রিয় ছাত্র হয়ে উঠেছিল। আমরা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেহেতু আজকে (গতকাল) জিহান মারা গেছে, সেহেতু ওই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। আর আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি।’