সকাল ৭টায় রামপুরা থেকে রওনা দিয়ে আজমপুরে ১১টায়

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি। খিলক্ষেত, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
ছবি: খালেদ সরকার

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর পদচারী–সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তাকালে দৃষ্টিসীমার মধ্যে থেমে থাকা গাড়ি ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। যানজটের কারণে গাড়িগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘক্ষণ। বিরক্ত হয়ে যাত্রীদের কেউ কেউ হেঁটেই রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে, কেউ–বা বসে আছেন অসহায়ের মতো। এ চিত্র আজ বুধবার বেলা ১১টার।

ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে কয়দিন। এ ছাড়া সড়কে চলছে সংস্কারকাজ। সেই সঙ্গে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। এ কারণে গতকাল মঙ্গলবারও সড়কে ব্যাপক যানজট ছিল। আর আজ ভোররাত থেকেই সড়কের বোর্ডবাজার থেকে রাজধানীর বনানী পর্যন্ত লেগে আছে যানজট।
সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চলছে বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে। এর মধ্যে গত রবি ও সোমবার টানা বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমেছে, সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক গাড়িই ঠিকঠাক চলছে না। এর বাইরে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় সড়কের একটি অংশ কাটা হয়েছে। এতে সড়কে গাড়ি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে।

ঢাকার রামপুরা থেকে গাজীপুরের স্টেশন রোড এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসযোগে রওনা দিয়েছিলেন মমতাজ উদ্দিন। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে পাওয়া যায় উত্তরার আজমপুর পদচারী–সেতুর নিচে। তখন বাসে যাত্রী জনা পাঁচেক। মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়েছি। চার ঘণ্টা পর আসলাম এ জায়গায়। বাকি রাস্তা কতক্ষণে যেতে পারব, তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। আমরা এ কয়জন ছাড়া সবাই বিরক্ত হয়ে আগেই বাস থেকে নেমে গেছে।’

গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চেরাগ আলী ও সেনাকল্যাণ ভবন এলাকায়। এখানে বড় বড় গর্তের কারণে গাড়িগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। আমরা সকাল থেকেই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’