হাইকোর্টের আদেশ দাখিলের জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন বিচারিক আদালত।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস এই আদেশ দেন।
আদেশের আগে প্রথম আলো সম্পাদকের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার আদালতকে লিখিতভাবে জানান, মামলার কার্যক্রম প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মামলার অন্য আসামি কবির বকুল, শাহপরান তুষার, শুভাশীষ প্রামাণিক ও মহিতুল আলমের পক্ষে মামলাটির কার্যক্রম বাতিল চেয়ে (ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এ ধারায়) আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সময় প্রয়োজন।

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের তারিখ ঠিক করেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে মতিউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল না। তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না। ওই অনুষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন না। এমনকি কোনো সাক্ষী মতিউর রহমানের নাম বলেননি। তর্কের খাতিরে তদন্তে প্রমাণিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সারবত্তা নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরে মূলত মামলাটি বাতিল চেয়ে আবেদনটি করা হয়
মোস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী

নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার কার্যক্রম প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ওই মামলা বাতিল চেয়ে প্রথম আলো সম্পাদকের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গত ১২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই দিন একই সঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর (আজ) মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রেখেছিলেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে মামলা বাতিল চেয়ে ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এই আবেদনের ওপর ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টে শুনানি হয়। সেদিন আদালত শুনানি নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দেন।

ওই ঘটনা তদন্তে ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করে। তদন্তে মতিউর রহমান দায় এড়াতে পারেন না বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে সরাসরি সম্পৃক্ততার চেয়ে নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলা ছিল কি না, তা–ই এখানে বিবেচ্য
সাইফুদ্দিন খালেদ , ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল

হাইকোর্টে প্রথম আলো সম্পাদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী হারুন-উর রশিদ, আফতাব উদ্দীন সিদ্দিকী ও প্রশান্ত কর্মকার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

হাইকোর্টে শুনানির বিষয়ে গতকাল আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে মতিউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল না। তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না। ওই অনুষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন না। এমনকি কোনো সাক্ষী মতিউর রহমানের নাম বলেননি। তর্কের খাতিরে তদন্তে প্রমাণিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সারবত্তা নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরে মূলত মামলাটি বাতিল চেয়ে আবেদনটি করা হয়।

শুনানির বিষয়ে গতকাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, ওই ঘটনা তদন্তে ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করে। তদন্তে মতিউর রহমান দায় এড়াতে পারেন না বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে সরাসরি সম্পৃক্ততার চেয়ে নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলা ছিল কি না, তা–ই এখানে বিবেচ্য।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ স্থগিতাদেশ দেন। আবেদনকারীর (প্রথম আলোর সম্পাদক) ক্ষেত্রে ওই মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।

ঢাকার রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গত বছরের ১ নভেম্বর কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান ছিল। সেদিন মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র নাইমুল। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। এরপর ওই ঘটনায় নাইমুলের বাবা মজিবুর রহমান গত বছরের ৬ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে নালিশি মামলা করেন। ওই মামলায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি প্রথম আলো সম্পাদক, কিশোর আলো সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।