১২ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারে আলাদা হলো লাবিবা-লামিসার দেহ

জোড়া লাগা দুই বোন লাবিবা-লামিসা
এএফপি ফাইল ছবি

নীলফামারীর জোড়া লাগানো শিশু লাবিবা-লামিসার দেহ আলাদা করেছেন চিকিৎসকেরা। সোমবার সকাল থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার চালিয়ে তাদের দেহ আলাদা করা হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ৩৮ জনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের পর তার দুজনই ভালো আছে।

বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ও শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আশরাফ উল হক কাজল রাতে ঢামেকে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এই অপারেশনে আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল। দুই শিশুর পায়ুপথ ও প্রস্রাবের পথ ছিল একটি, যা পৃথক করাই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আরেকটি বড় সমস্যা ছিল তাদের মেরুদণ্ড। আমরা সফল।’ তিনি আরও বলেন, দুই বোন এখন সুস্থ। তাদের জ্ঞান ফিরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকেরা বলেন, এ অস্ত্রোপচার করতে যে সমস্ত বিভাগের প্রয়োজন ছিল ওই সব বিভাগের প্রধানেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। লাবিবা-লামিসাসহ এখন পর্যন্ত দেশে জোড়া লাগা ১৭ শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে। যার মধ্যে ১৪ জন বিভিন্ন কারণে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল জন্ম নেয় লাবিবা-লামিসা। তাদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার যদুনাথপাড়ায়। দুই শিশুর বাবা মো. লালমিয়া একজন নির্মাণশ্রমিক। মা মনুফা আক্তার। জন্মের নয় দিন পর ঢামেক হাসপাতালে শিশু দুটিকে নিয়ে এসেছিল পরিবার। তখন থেকেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিল তারা।

গত ২৮ নভেম্বর ঢামেকের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয় লাবিবা-লামিসাকে। এরপর তাদের আলাদা করতে প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার হয় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর।