সহপাঠী ও শিক্ষকের বুলিং এক কিশোরের মৃত্যুর অন্যতম কারণ—এমন অভিযোগে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক–আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ রোববার এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে বিদ্যালয়ে বুলিং রোধে নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরির অগ্রগতি ২৯ নভেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলেছেন আদালত।

‘মোটা বলে সহপাঠী ও শিক্ষকের লাঞ্ছনার শিকার মৃত কিশোরের পরিবার যা বলছে’ শিরোনামে গত বছরের ৮ জুলাই বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ একই বছরের ১৬ আগস্ট ওই রিট করেন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার শিক্ষার্থী ছিল ওই কিশোর।

রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। ওই অভিযোগ তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে ঢাকার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। রিটের পক্ষে আইনজীবী তানভীর আহমেদ নিজেই শুনানি করেন।

ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, যেহেতু স্কুল বন্ধের প্রায় এক বছর চার মাস পর ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং শিক্ষার্থী অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা রোগে আক্রান্ত ছিল বলে তার বাবা স্বীকার করেছেন; তাই তার মৃত্যু বুলিংয়ের কারণে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়নি। অন্যদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিযোগ করেছে যে স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে।