‘৩৭ শ কোটি টাকা লুটপাটে দায়ী পাঁচ ডেপুটি গভর্নর’ শিরোনামে ১৭ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে এলে পরদিন হাইকোর্ট আর্থিক ওই কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পাঁচ ডেপুটি গভর্নরসহ নাম আসা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা মৌখিকভাবে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানিকালে আদালত ওই অভিমত ব্যক্ত করেন। আদালতে দুদকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুনানি করেন।

শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। পি কে হালদারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ৩৪টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান শাখা থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর (এস কে সুর) বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফসি) সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মান্নানের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে করা দুটি মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলা দুটি বিচারাধীন।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘পত্রিকার প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির ১ হাজার ২০০ পৃষ্টার যে প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছে, তা আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা লিখিত আদেশ থাকলে জানতে পারব। পত্রিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম এসেছে। এর সঠিকতা যাচাই করা দরকার। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই নামগুলো পত্রিকায় চলে এসেছে।’

একপর্যায়ে আদালত বলেন, তাহলে কিছুদিন সময় দিয়ে দেখা যেতে পারে, তারা যাচাই-বাছাই করে কী পদক্ষেপ নেয়। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের কী ভূমিকা, তা আদালত দেখতে পারেন। আদালত বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কী করছে, দুদক কী করছে, তাহলে কিছুদিন দেখি।’

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘১ হাজার ২০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন, যেখানে ২৪৯ কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আমরা তো কিছুই পাচ্ছি না। তবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি গঠন করেছে দুদক। কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে।’ দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনারা সক্রিয় থাকেন, আরও সতর্ক থাকেন। যে তথ্যই আনুক না কেন, ইতিবাচকভাবে নেন।’

এ সময় খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘প্রত্রিকার প্রতিবেদনটি ধরেই এগোচ্ছি। কেউ নেতিবাচক বললেও তাকে স্বাগত জানাই। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ হাজার ২০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের কথা বলা হয়েছে। এ তদন্ত প্রতিবদন না দেখে ও না পড়ে পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি কার্যধারা শুরু করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি তদারকি করছেন। এ বিষয়ে দুদকও কাজ করছে। তাই যৌক্তিক সময় দিন।’ পরে আদালত অগ্রগতি জানাতে বলে ৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন রাখেন।