সত্য ও ন্যায্যতার মধ্য দিয়ে পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে হবে

প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মী সমাবেশে মঞ্চে ডেকে নেওয়া চার অতিথি বাঁ থেকে আরিফ দৌলা, ম তামিম রুবানা হক ও মোশাররফ করিমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ৪ নভেম্বরছবি: প্রথম আলো
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, সমাজের চিন্তা, মূল্যবোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রথম আলো। সত্য প্রকাশ, পাঠকের আস্থা অর্জন এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পত্রিকাটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সরকারি পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ—উভয় পক্ষেরই রোষানলে পড়েছে প্রথম আলো। এ থেকে প্রমাণিত হয়, প্রথম আলো সঠিক পথেই রয়েছে। নানা সংকট ও চাপের মধ্যেও এই ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন বক্তারা।

দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্প নিয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করলেন প্রথম আলোর সাংবাদিকেরা। আজ বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর সারা দেশের প্রতিনিধি ও ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকসহ সব স্তরের কর্মীরা সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের দ্রুত খাপ খাইয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা ও সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রতিবছরই প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর কর্মীরা ছাড়াও বেশ কিছু লেখক, পাঠক, মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী আসেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। তাঁদের মধ্যে থেকে এবার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম, এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ দৌলা, পোশাক শিল্পগোষ্ঠী মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক এবং অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিমকে মঞ্চে ডেকে নেন সঞ্চালক সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন।

প্রথম আলোকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও আশার কথা বলেন ম . তামিম
ছবি: প্রথম আলো

ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ম. তামিম বললেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন। এর তিন–চার বছর পর যখন প্রথম আলোতে তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর এই সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল। তিনি বলেন, প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে। তিনি লক্ষ করেছেন, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সরকারি পক্ষ ও বিরোধী পক্ষ—উভয় পক্ষেরই রোষানলে পড়েছে প্রথম আলো। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে প্রথম আলো সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো বিভিন্ন দিক থেকে যে চাপের মধ্য থেকে কাজ করে, গত ডিসেম্বরে হামলার ঘটনা তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তবে এই হামলা সত্ত্বেও প্রথম আলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

প্রথম আলোকে নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরিফ দৌলা
ছবি: প্রথম আলো

এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ দৌলা বলেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকর অনেক রকমের কাজ করে, অনেক উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে বিশেষ করে গণিত নিয়ে সারা দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথম আলোর যে কার্যক্রম, তা সত্যি আমাকে বিস্মিত করেছে। আমাদের সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে এখন এআই এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। প্রথম আলোকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব পরিবর্তন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি এই পরিবর্তনের উপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে তিনি পরামর্শ দেন।

প্রথম আলোর কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান রুবানা হক
ছবি: প্রথম আলো

পোশাক শিল্পগোষ্ঠী মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক বলেন, নানা সংকট ও চাপের মধ্যেও প্রথম আলো সত্য ও ন্যায্যতার মধ্য দিয়ে পাঠকের আস্থার জায়গা অর্জন করেছে। এই আস্থা ধরে রাখতে হবে। পাঠকদের শুধু গ্রাহক হিসেবে নয়, প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, আস্থা কেনা বা ধার করা যায় না। তাই দ্রুত সংবাদ প্রকাশ কিংবা টিআরপির পেছনে না ছুটে পাঠকের বিশ্বাস অর্জন জরুরি।

পাঠক কী পড়তে চান, সেই বিষয়টি সম্পর্কে মনোযোগী হতে তিনি পরামর্শ দেন। প্রথম পাতায় ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক খবর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন রুবানা হক। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সাফল্য, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অর্জন এবং মেয়েদের খেলাধুলার খবর তুলে ধরতে বলেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পাঠকের চাহিদা বোঝার উদ্যোগ নেওয়া এবং দুর্নীতির খবরের জন্য আলাদা পাতা রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রথম আলোর প্রতি ভালোবাসার কথা জানান মোশাররফ করিম
ছবি: প্রথম আলো

অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, প্রথম আলোর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসা রয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। এরপরও প্রথম আলো কখনো তাঁর প্রতি বিরূপ আচরণ করেনি; বরং তাঁকে বুঝেছে ও গ্রহণ করেছে।

অভিনয়জীবনের শুরুতে প্রচারের চেয়ে কাজের মাধ্যমে পরিচিত হতে চেয়েছিলেন এ অভিনেতা। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য প্রথম আলোর জরিপে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পান। সেই থেকে প্রথম আলোর সঙ্গে তাঁর পথচলা। তিনি বলেন, সহজ কথায় বলতে গেলে, ‘প্রথম আলো আমাকে ভালোবাসে। আমি প্রথম আলোকে ভালোবাসি।’ অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয় হলেও মোশাররফ করিম কবিতার চর্চাও করেন। সঞ্চালকের অনুরোধে তিনি তাঁর ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

পরে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অতিথিদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।