দেশে আনা হলে বেনজীরকে ট্রাইব্যুনালেও হাজির করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামছবি: প্রথম আলো

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে আনা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাঁকে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন আছে। তাঁকে যদি বাংলাদেশে আনা হয়, এই ট্রাইব্যুনালেও আনা হবে। যেসব মামলায় বিচার চলছে, সেখানে হাজির করা হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আজ সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে বেনজীর দুবাইয়ে আছেন।

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন আসামি বেনজীর আহমেদ। এ ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায়ও বেনজীর আহমেদ আসামি। এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে ১২ জন সেনা কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলায় এখন সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। চট্টগ্রামের একরাম হত্যার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। আরও ৭ থেকে ১০টি মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর প্রতিটিতে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের যেসব মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান, সেগুলোতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ কঠোর হস্তে তাঁর বিচার সম্পন্ন করা হবে।

বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন, তিনি একসময় দেশ চালাতেন উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁর যে দম্ভোক্তি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—সবকিছু মিলে তখন কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন বেনজীর। এই পরিচিতির কারণ হলো তিনি হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই, যেটা কর্মজীবনে করেননি।

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যে কটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনে বেনজীরের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যাসহ অসংখ্য দায় তাঁর।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে দিয়েছে প্রসিকিউশন। পুলিশের এনসিবির মাধ্যমে ইন্টারপোলে তাদের কাছে এই ওয়ারেন্টের কপি যাবে। তাঁর জানামতে, সরকার ইতিমধ্যে বেনজীরকে এক্সট্রাডিশন (ফেরত) চেয়ে আবেদন করেছে। কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সেখানে এক মাস সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশের ওয়ারেন্টের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ইন্টারপোল বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে এবং দুবাই পুলিশের হেফাজতে তিনি আছেন উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিশ্বাস—বাংলাদেশ সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে।