৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ
বিনিয়োগ ও যাত্রীবান্ধব বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, নতুন বিধিমালা ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন বিধিমালায় তাই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় উপস্থিত এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা সরকারের মূল অংশীজন। বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইনসের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় ইরিভোকেবল ডিরেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড এক্সপোর্ট রিকোয়েস্ট অথরাইজেশন (আইডিইআরএ)–সংক্রান্ত বিধি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়া আয়োজনের কথা বলেন মন্ত্রী। দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে তিনি আশা করেন। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। নতুন বিধিমালা প্রণয়নে প্রস্তাবিত ধারাগুলো নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি-বেসরকারি অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।