‘একটা ভোটের অনেক দাম, বাবা’
৯০ বছর বয়সে লাঠিতে ভর দিয়ে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান মো. শফিক। লাঠিতে ভর দিয়েই সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় ওঠেন এবং ভোট দেন। পরে বলেন, কিছুটা কষ্ট হলেও নির্বিঘ্নে পরিবার নিয়ে ভোট দিতে পেরে খুব আনন্দিত তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনের ভোটকেন্দ্রে তরুণদের পাশাপাশি মো. শফিকের মতো প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। হাঁটাচলায় কষ্ট হলেও ভোট দিতে পেরে আনন্দিত তাঁরা।
এমন প্রবীণ ভোটারদের একজন ৭০ বছর বয়সী উজির আহমেদ। তিনি ঢাকা–১৬ আসনের আহছানিয়া মিশন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। একজন আনসার সদস্যের সহায়তায় তিনতলা পর্যন্ত উঠতে তাঁর অনেকটা সময় লেগে যায়। কষ্ট হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘একটা ভোটের অনেক দাম, বাবা।’
ধানমন্ডির বাসিন্দা মাহফুজুল হক ঢাকা–১০ আসনের ভোটার। বয়স ৭৪–এর কাছাকাছি। তিনি ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। মাহফুজুল হক ভোট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা–১২ আসনের ভোটার ৮০ বছর বয়সী মিজানুর রহমান নয়াটোলা আনওয়ারুল উলূম নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ভোট দিয়েছেন। মিজানুর বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তিনি। আজ সকাল সকাল চলে এসেছেন ভোট দিতে।
৯০ বছর বয়সে লাঠিতে ভর দিয়ে গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান মো. শফিক। সঙ্গে তাঁর বয়োজ্যেষ্ঠ স্ত্রীও আসেন লাঠিতে ভর দিয়ে। মো. শফিক বলেন, তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে ভোট দিয়েছেন। কিছুটা কষ্ট হলেও নির্বিঘ্নে পরিবার নিয়ে ভোট দিতে পেরে বেশ আনন্দিত তিনি।
আজ সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগে থেকে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাউকে কাউকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। তেমনই একজন যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী মো. আবুল হোসেন। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগে থেকে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকে শখানেক ভোটারের সঙ্গে তাঁকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৮–এর পর ১৭ বছর কোনো ভোট দিইনি। এবার একটু উৎসবের মতন লাগছে। তাই পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে এসেছি।’
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর আজ একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন দেশের মানুষ। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে–বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’–‘না’ভোট দিয়ে মত জানাবেন তাঁরা।
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।