বিমানের সফটওয়্যার কেনা নিয়ে প্রতিবেদন ‘ভিত্তিহীন’ দাবি, প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো অনলাইনে ১৫ মার্চ প্রকাশিত ‘যাঁকে নিয়ে চলছে দুদকের অনুসন্ধান, তাঁকেই বসানো হলো বিমানের বড় পদে’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য একপক্ষীয়, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিমান কর্তৃপক্ষের পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ২০১২ ও ২০১৬ সালে সফটওয়্যার ক্রয় প্রক্রিয়া তৎকালীন প্রশাসনিক আদেশ ১৩/২০০৮ ও বোর্ড সাব–কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী আইনানুগভাবে সম্পন্ন করা হয়। এসব সফটওয়্যার এখনো বিমানে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এগুলোকে ‘অকেজো’ বলা বা ক্রয় প্রক্রিয়াকে ‘তছরুপ’ হিসেবে উল্লেখ করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিমান কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বোর্ড সাব–কমিটির নির্দেশনা এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদনে একই সংস্থা থেকে অ্যাড–অনস পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিমানের লিগ্যাল বিভাগের ভেটিংও নেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

দুটি সফটওয়্যার কেনার বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিমানের ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছাড়াই এই দুটি সফটওয়্যার কেনা হয়। তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (রাজস্ব) মিজানুর রশীদ বিমানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। বর্তমানে ফিনেস এফপিএস সফটওয়্যারটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে তথ্য আপলোড করার পরই কেবল মুনাফা বিশ্লেষণ (প্রফিটেবিলিটি) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। অথচ আগে একই কাজ নিজস্বভাবে এমএস এক্সেল ব্যবহার করে করা হতো। এই সফটওয়্যার ব্যবহারে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, একইভাবে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ফিনেস কস্ট অ্যান্ড বাজেট সফটওয়্যার কেনা হলেও এটি কোনো কাজে আসেনি। ফলে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবু ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মোট ২৪ হাজার মার্কিন ডলার (বর্তমান দরে ২৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়।

বিমানের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মতামতে বলা হয়েছে, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে অ্যাসেলিয়া সলিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে ‘এফপিএস’ এবং বাজেট সফটওয়্যার কেনার জন্য তৎকালীন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিএফও) ভিনিত সুদ ও মিজানুর রশীদ সমানভাবে দায়ী। ভারতের নাগরিক ভিনিত সুদ ২০২০ সালে বিমানের চাকরি ছেড়ে যান।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ‘যাঁকে নিয়ে চলছে দুদকের অনুসন্ধান, তাঁকেই বসানো হলো বিমানের বড় পদে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

এ ছাড়া বিমানের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি যে পদায়ন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য: বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এত অভিযোগ, তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কারণে বিমানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে তথাকথিত উল্লেখ করে বিমানের প্রতিবাদলিপিতে দাবি বলা হয়, স্বার্থান্বেষী একটি মহল ব্যক্তিগত আক্রোশবশত তার বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগটি উত্থাপন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, অভিযোগটি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলেই সেটার অনুসন্ধান শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগটি দুদকের যাচাই–বাছাই কমিটিতে (যাবাক) পাঠানো হয়। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যাচাই–বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য পাঠানো হয়। মিজানুর রশীদের বিষয়টিও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুসন্ধান চলছে।