রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর
ছাত্র–জনতা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় অভিযোগ গঠনের বাকি শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা কয়েকজন আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে অন্যান্য আবেদনের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ কারাগারে থাকা ২৪ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় তাঁদের হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালত তাঁদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করে।
এদিকে মামলার এক আসামি জামিরুল ইসলাম বাবু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি করেন। পরে তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। তখন থেকে মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি ভার্চ্যুয়াল সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ নেতা–কর্মী অংশ নেন। সেখানে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন। এ বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।