নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রিটের ওপর রায় বৃহস্পতিবার
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার শুনানি শেষে বিচারপতি জাফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের এই দিন ধার্য করেন।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়।
এরপর প্রধান বিচারপতি গত ১৫ ডিসেম্বর রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। ৫ ও ৮ জানুয়ারি শুনানি হয়। এরপর ১৩ জানুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত শুনানির জন্য ২০ জানুয়ারি দিন রাখেন।
ধার্য তারিখ ২০ জানুয়ারি রিট আবেদন দায়েরকারী আইনজীবী আদালতকে জানান, রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন মামলাটি (রিট) ট্রান্সফার (বদলি) করে অন্য কোর্টে দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি জানানোর পর আদালত এক দিনের জন্য শুনানি মুলতবি করেন।
বিষয়টি ২১ জানুয়ারি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। বিষয়টি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে বদলি (ট্রান্সফার) চেয়ে রিট আবেদনকারীর আবেদন প্রধান বিচারপতি খারিজ করে দিয়েছেন বলে সেদিন (২১ জানুয়ারি) হাইকোর্টকে অবহিত করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিন শুনানি হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী শুনানি করেন। বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন।
পরে আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের একক বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আদালত রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভিক্ত রায় হয়।
২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জি–টু–জির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান।
চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জি–টু–জি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।