করোনার নতুন ধরন (ভেরিয়েন্ট) অমিক্রন ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টি দেশে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতও আছে। এ ধরন নিয়ে ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিজ্ঞানীরা বলছেন। ভয়ের কথা বলছেন অন্যরাও। আফ্রিকায় এ ধরন প্রথম শনাক্ত হয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি যে বর্ডার বন্ধ করতে হবে বা লকডাউন দিতে হবে। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি বর্ডারে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘অমিক্রন মোকাবিলায় আমাদের যা যা প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব, ইতিমধ্যেই সব নিয়েছি। আমরা এর মধ্যেই অমিক্রন মোকাবিলায় একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা করেছি। সেই সভা থেকে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাউথ আফ্রিকা ও অমিক্রন আক্রান্ত অন্যান্য দেশ থেকে যে–ই আসবে, তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা আগে টেস্ট করে আসতে হবে এবং দেশে তাঁদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘ঢাকায় যেসব হাসপাতালে আগেও কোভিড চিকিৎসা হয়েছে, সেগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার বাইরেও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং–ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ল্যাবের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আগে ২ হাজার স্কয়ার ফিটের ল্যাব ছিল, সেটি এখন ৩০ হাজার স্কয়ার ফিটের বেশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’

সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে অতি সম্প্রতি আট হাজারের বেশি নার্স এবং চার হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। অমিক্রন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্তগুলোর দিকেও আমাদের দৃষ্টিপাত রয়েছে। তবে সব প্রস্তুতির পরও দেশের মানুষকে আরও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।’

ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই মুহূর্তে দেশে না এলেই ভালো হবে বলে জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ থেকে যাঁরা দেশে আসবেন, তাঁদেরও দায়িত্ব আছে। তাঁরা যেন সংক্রমিত হয়ে দেশে না আসেন। যাঁরা বিদেশে আছেন, বিশেষ করে যাঁরা আফ্রিকার দেশে আছেন, এই মুহূর্তে দেশে না এলেই ভালো হয়। কারণ, আপনারা আপনাদের পরিবার ও দেশকে নিরাপদে রাখতে চাইবেন। তাই যে যেখানে আছেন, সেখানেই নিরাপদে থাকুন।’

অমিক্রন মোকাবিলা করা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তত রেখেছি। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় চিঠি দিয়েছি, তারা যেন অমিক্রন মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করে।’

টিকার কার্যক্রম নিয়ে বলতে গিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সাত কোটির বেশি প্রথম ডোজ ও চার কোটির কাছাকাছি দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিয়েছি। এটাও একটা বড় প্রস্তুতি। কারণ, অমিক্রনকে যদি মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি হবে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় আরও ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।