বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জিম্বাবুয়ে–ফেরত দুজন নারী ক্রিকেটারের করোনা পরীক্ষায় পাওয়া ভাইরাসটির জিন বিশ্লেষণ করে ১০ ডিসেম্বর অমিক্রন শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। অবশ্য ওই দুই নারী ক্রিকেটার ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

default-image

গতকাল বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাসের জিন বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন কারও শরীরে অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

মাস্ক, মাস্ক এবং মাস্ক

করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো উপসংহারে এখনো পৌঁছাতে পারেননি ভাইরাস বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা। তবে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অমিক্রনের অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রয়েছে। ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, উদ্বেগের একাধিক কারণ আছে। প্রথমত, ডেলটা ধরনের চেয়ে অমিক্রন দ্রুত বেশি মানুষকে আক্রান্ত করেছে। দেড় থেকে তিন দিনের মধ্যে আক্রান্তর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে দেখা যাচ্ছে। বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার অর্থ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়বে।

আমরা করোনাভাইরাসের জিন বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন কারও শরীরে অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাহমিনা শিরীন, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে মাস্কের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের জন্য তারা পৃথক সুপারিশ করেছে। তারা বলেছে, অনুমোদিত মাস্ক ও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যেসব স্থানে এক মিটারের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা সম্ভব নয়, সেখানে মাস্ক পরতে হবে। মাস্কের ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের করণীয় বিষয়েও সুপারিশে বলা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাস্ক পরার ব্যাপারে দুই ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। হাসপাতাল, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, অফিসে অর্থাৎ বদ্ধ জায়গায় থাকা সব মানুষকে মাস্ক পরে থাকার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে মানুষ যেন মাস্ক না পরে ঘরের বাইরে না যায়, সে ব্যাপারে জোর প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।

আলাদা প্রস্তুতি নেই

অবশ্য অমিক্রন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো প্রস্তুতি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অমিক্রন মোকাবিলার জন্য আমাদের পৃথক কোনো প্রস্তুতি নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাড়তি কোনো প্রস্তুতির কথা বলেনি। আমাদের আগে যে প্রস্তুতি ছিল, সেগুলোকেই প্রয়োজনমাফিক সক্রিয় করে তুলছি।’

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহমেদুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জায়গাটি খুব ছোট। একসঙ্গে তিন-চারটি ফ্লাইটে যাত্রী এলে প্রচুর ভিড় হয়, স্থান সংকুলান হয় না। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে আজ শুক্রবার বিকেলে একটি সমন্বয় সভা হওয়ার কথা আছে।

মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আড়াই থেকে দুই কোটি মাস্ক মজুত আছে। আমরা খুব শিগগির তা দেশের হাসপাতালগুলোতে পাঠিয়ে দেব। অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার জন্য প্রচার-প্রচারণা শুরু করব।’

এদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীর করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৭ হাজার ৫৫৭ জন যাত্রী এসেছেন। তাঁদের অধিকাংশেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আহমেদুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জায়গাটি খুব ছোট। একসঙ্গে তিন-চারটি ফ্লাইটে যাত্রী এলে প্রচুর ভিড় হয়, স্থান সংকুলান হয় না। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে আজ শুক্রবার বিকেলে একটি সমন্বয় সভা হওয়ার কথা আছে।

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক এবং দেশের সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে একাধিক সভা করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা শহরে এবং ঢাকার বাইরের কোভিডের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর মহাখালীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোভিড হাসপাতালে শয্যা আছে ১ হাজার ৫৪টি। গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২৭ জন। হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল মিজানুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে রোগী কমেছে। আমাদের আগেই প্রস্তুতি ছিল। হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন আছে। পর্যাপ্ত হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি ১১৮টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা আছে। এসব হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ২৯ হাজার ৮৩টি, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা আছে ২ হাজার ১৯টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ২ হাজার ৩৩৪টি। সারা দেশে করোনা রোগীর জন্য সাধারণ শয্যা আছে ১৩ হাজার ৫২৮টি এবং আইসিইউ শয্যা আছে ১ হাজার ২১৩টি। গতকাল সারা দেশে রোগী ভর্তি ছিল ৭৩৫ জন।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন