বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত বা সুপারিশগুলো জানাতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, যানবাহনে মাস্ক ছাড়া চলা যাবে না। যদি কেউ চলাচল করে, তাহলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। যানবাহন বলতে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ পড়বে। এ ছাড়া যানবাহনে যাত্রী পরিবহন ধারণক্ষমতার অর্ধেক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেস্তোরাঁ-হোটেলে মাস্ক পরে যেতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাস্ক ছাড়া গেলে দোকানদার এবং যিনি যাবেন, তাঁর জরিমানা হতে পারে। দোকান খোলা রাখার সময়সীমাও রাত ১০টার পরিবর্তে ৮টা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়েও প্রস্তাব করা হয়েছে। করোনার টিকা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে টিকা কার্ড দেখাতে হবে। হোটেলে মাস্ক পরে যেতে হবে। শুধু খাওয়ার সময় মাস্ক খুলে খেতে পারবেন এবং পরে আবার মাস্ক পরে চলে আসতে হবে।

আপাতত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ বেশি বাড়লে স্কুল খোলা রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনো সেই সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, সেই পরিস্থিতিও এখনো দেশে হয়নি।

আর এখনই লকডাউনের চিন্তা করা হচ্ছে না। তবে যদি পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায় এবং সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে লকডাউনের বিষয়টি বিবেচনায় আছে বলে জানান জাহিদ মালেক। এ ছাড়া সীমান্তের বন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়েছে এবং কোয়ারেন্টিনের সময় পুলিশি পাহারা থাকবে।

এসব নির্দেশনা যখন স্থানীয় প্রশাসন পাবে, তখন তাদের সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু এখন সাত দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলা হয়েছে এবং তিনিও একমত হয়েছেন। কারণ, ১৫ দিন অনেক লম্বা সময়। এ জন্য সাত দিন পরে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে। এখানে সবার সহযোগিতা দরকার।
রোগী বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল প্রস্তুত আছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে রোগী যাতে না বাড়তে পারে, সে বিষয়ে খেয়াল রেখে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়। সবকিছু একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলতে হবে। সেই নির্দেশনা সাত দিন পরেই পাওয়া যাবে।

করোনার নতুন ধরন অমিক্রন এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে অমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার বিস্তার রুখতে পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে এরই মধ্যে আবার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

মানুষের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। করোনার ডেলটা ধরনের বিপর্যয় পার করে আসা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বেশির অমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে গত বছরের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু, রোগী শনাক্ত ও শনাক্তের হার বেড়েছিল। তবে আগস্টে দেশব্যাপী করোনার গণটিকা দেওয়ার পর সংক্রমণ কমতে থাকে। গত ডিসেম্বরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। কিছুদিন ধরে সংক্রমণে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৭৫ জন। এ সময় করোনায় আক্রান্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন