default-image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশে আড়াই লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় নিলে দেশে সুস্থতার হার ৭২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গত মার্চে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে দেশে সুস্থতার হার বেশ কম ছিল। গত ২ মে পর্যন্ত সুস্থতার হার ছিল ২ শতাংশ। তখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের ২৪ ঘণ্টায় পরপর দুটি পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা হতো। দুটি পরীক্ষাতেই করোনা নেগেটিভ এলে রোগীকে সুস্থ বলা হতো এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতো।

বিজ্ঞাপন

তবে ৩ মে থেকে সুস্থতার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে বলা হয়, ওষুধ ছাড়া টানা তিন দিন জ্বর না থাকলে, কাশি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে। এই পরিবর্তন আনার পর থেকে মূলত দেশে সুস্থতার হার বাড়তে থাকে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চীনের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের যৌথ মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, মৃদু সংক্রমণের (মাইল্ড কেস) ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। আর যেসব রোগীর অবস্থা জটিল বা অন্য সংকটাপন্ন রোগ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সুস্থ হতে সময় লাগে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৫৯৩ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হলো ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৬ জন। এ নিয়ে মোট ৪ হাজার ৮৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৫০ হাজার ৪১২ জন। দেশে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়াদের বাদ দিলে দেশে এখন চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৮৮ হাজার ৯৯৩ জন। শুরু থেকে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলের করোনাভাইরাস সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য রাখছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের হিসাবে, এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন (অ্যাকটিভ কেস) রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এই তালিকায় প্রথম স্থানে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে ভারত। বাংলাদেশের ওপর থাকা ৯টি দেশেই চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা লাখের বেশি।

বিজ্ঞাপন

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৫তম। সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যার দিক থেকেও বাংলাদেশের অবস্থান ১৫তম।

অবশ্য করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও অনেকে নানা জটিলতায় ভুগছেন বলে জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, অনেকে ঘুমাতে পারছেন না, কারও কারও হার্টের সমস্যা বাড়ছে, অনেকে করোনামুক্ত হওয়ার পরও আতঙ্কে থাকছেন, অনেকের স্নায়বিক সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো দেখতে হবে। সংক্রমণের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি হচ্ছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-উত্তর সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবা নেওয়ার জন্য সবাইকে সচেতন করা এবং অন্তত সব বড় শহরে এই সেবা চালু করা দরকার।

মন্তব্য পড়ুন 0