বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, কোভ্যাক্স থেকে এ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের উপহারের টিকা পাওয়ার কথা। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা কেনার কথা ছিল। এখন সেই টিকা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আগেভাগে কেনা হচ্ছে। তিনি জানান, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে কেনা টিকা অক্টোবর থেকে দেশে পৌঁছানো শুরু হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা প্রথম আলোকে বলেন, বছরের শেষ প্রান্তিক থেকে ১০ কোটির বেশি টিকা দেশে আসার কথা রয়েছে। এই টিকা হবে চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের।

দরিদ্র দেশগুলোতে টিকাদান নিশ্চিতের বৈশ্বিক জোট গ্যাভির ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোভ্যাক্স ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৯০ কোটি টিকা বিভিন্ন দেশে বিতরণ করতে চায়।

জেনেভার কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, কোভ্যাক্সের টিকা সংগ্রহের ৬০ শতাংশ উৎস ছিল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট।

সেরাম থেকে না পেয়ে কোভ্যাক্স বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহে জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুলাইয়ে গ্যাভি চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকা কেনার জন্য আগাম ক্রয় চুক্তি করে। গ্যাভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ বার্কলের বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির ফলে কোভ্যাক্সের অংশীদারেরা খুব শিগগির টিকা হাতে পাবে।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোভ্যাক্সকে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার একধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে টিকা কিনবে, তা স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাবে।
অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান, চেয়ারম্যান ফার্মাকোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ

দেশে পৌঁছেছে ৪ কোটি টিকা

বিভিন্ন উৎস থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৩ লাখ ৬০০ টিকা এসেছে। গতকাল পর্যন্ত দেশে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না, ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা।

দেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকে টিকা দিতে হলে ১৩ কোটি মানুষের জন্য দুই ডোজ করে ২৬ কোটি টিকা লাগবে। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের কাছ থেকে কেনা ও বিনা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ১৬ কোটি টিকা। অবশিষ্ট সাড়ে ৯ কোটি টিকার মধ্যে চীনের সিনোফার্ম থেকে সাড়ে সাত কোটি টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে। আর চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কেনা তিন কোটি টিকার মধ্যে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ টিকা। এসব টিকার বাইরে ভারত ও চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ উপহার হিসাবে ৭০ লাখ টিকা পেয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের যে টিকা প্রয়োজন, তার চেয়ে বাড়তি এক কোটি টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, ওই দিন পর্যন্ত ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে যাতে এক কোটি ডোজের বেশি টিকা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ গণটিকা কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ

আজ মঙ্গলবার সাধারণ কেন্দ্রের বাইরে সারা দেশে সম্প্রসারিত আকারে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এক দিনে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ টিকা পাবে।

৭ আগস্ট স্বাস্থ্য বিভাগ সম্প্রসারিত গণটিকাদান শুরু করেছিল। এই কর্মসূচি চলেছিল ১২ আগস্ট পর্যন্ত। ওই সময় নিয়মিত করোনা টিকা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন, ১ হাজার ৫৪টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশনের ৪৩৩টি ওয়ার্ডের কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়েছিল। আজও ওই কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজও চীনের সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে।

বিকল্প উৎসে জোর

শুরুতে বাংলাদেশ করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি টিকার ওপর নির্ভর করেছিল। গত বছরের নভেম্বরে সেরাম থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি তিন কোটি ডোজ টিকা কিনতে বেক্সিমকো ফার্মাকে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে বাংলাদেশ। সেরাম দুই দফায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে পাঠায়। ভারতে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক অবনতি ঘটায় টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বাংলাদেশের গণটিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের লক্ষ্যে এপ্রিলের শেষে এবং মে মাসের শুরুতে যথাক্রমে রাশিয়ার স্পুতনিক-ভি এবং চীনের সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। জুন ও আগস্টে চীনের সিনোফার্মার সঙ্গে দুই দফায় টিকা কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া দেশে যৌথ টিকা উৎপাদনের জন্য বেসরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্‌টাকে যুক্ত করে সিনোফার্ম ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও সই হয়েছে।

বাংলাদেশের টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোভ্যাক্সকে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার একধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে টিকা কিনবে, তা স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাবে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন