বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বারান্দার একদিকে স্বেচ্ছাসেবকের আরেকটি দল তালিকা নিয়ে বসে ছিল। টিকা দিতে আসা নারীদের নিবন্ধন ও মুঠোফোন নম্বর তারা মিলিয়ে দেখছিল।

টিকাদানকেন্দ্রটিতে দেড় ঘণ্টা অবস্থান করে দেখা যায়, সেখানে লাইনে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না। অপেক্ষমাণ টিকাপ্রত্যাশীদের জন্য বসার ব্যবস্থা ছিল। সুশৃঙ্খলভাবে টিকা দেওয়া হচ্ছিল। তবে আগের দিন তালিকাভুক্ত হয়েও টিকা দিতে না পারা এবং ভুল বার্তা দিয়ে দুগ্ধদানকারী মায়েদের টিকা না দিয়ে ফেরত পাঠানোর মতো দু-একটি ঘটনা ঘটেছে। চাহিদার তুলনায় টিকা কম হওয়ায় ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে তালিকা করা হয়েছে।

কালাচাঁদপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেবেকা সুলতানা (৩২) আজ কেন্দ্রে টিকা নেওয়া দ্বিতীয় নারী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলামেরও আজ টিকা দেওয়ার তারিখ। তিনি দুপুর ১২টার পর আসবেন।

চাকরিজীবী নারী সবিতা পারভীন প্রথম আলোকে জানান, সকাল ১০টায় তাঁর অফিস। তিনি ছুটি নেননি। এ কারণে সকাল আটটার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন যেন শুরুতেই সুযোগ পান। রেবেকার পরই তিনি টিকা নিয়েছেন বলে জানান।
সাদিয়া শেখ রেণু নামের আরেক নারী জানান, তাঁর পরিবারের চারজন তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তিনি আজ দিলেও অন্যরা পরে নিবন্ধন করায় এখনো টিকা নেওয়ার তারিখ পাননি।

কালাচাঁদপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফুর রহমান স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন টিকাদানকেন্দ্রে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, আজ ৩৫০ নারী-পুরুষের তালিকা করা হয়েছে। যাঁরা আজ টিকা পাবেন, তাঁদের মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেই বার্তা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসা ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে তাঁরা টিকা দেওয়ার জন্য লাইনে বসিয়ে রেখেছেন।

দুগ্ধদানকারী মায়েদের টিকা দেওয়া হয়নি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলা প্রাঙ্গণে প্যান্ডেল করে একদল স্বেচ্ছাসেবক বসে ছিলেন। তাঁরা মাইকে জানাচ্ছিলেন কারা টিকা নিতে পারবেন না, কারা পারবেন না। মাইকে বলা হচ্ছিল, যাঁদের ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি বা অন্য জটিলতা আছে, তাঁরা যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে টিকা দিতে আসেন। দুগ্ধদানকারী মায়েদের টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশুকে বুকের দুধ পান করানো দুই মা এ ঘোষণা শুনে চলে যান। যদিও সরকারি ঘোষণায় দুগ্ধদানকারী ও অন্তঃসত্ত্বা মা টিকা দিতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রথম আলো প্রতিবেদক এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এক স্বেচ্ছাসেবক টিকাদান বুথে দৌড়ে গিয়ে ভ্যাকসিনেটরের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ফিরে এসে বলেন, এখানে মডার্নার টিকা দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিনেটর তাঁকে জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের সময় তাঁদের বলা হয়েছে, মডার্নার টিকা দুগ্ধদানকারী মাকে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, দুজন মা এ কারণে চলে গেছেন। তবে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ওই দুজন মাকে কেন্দ্রে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বারডেম হাসপাতালের প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এবং ওজিএসবির সভাপতি ফেরদৌসী বেগম আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মডার্না কেন, যেকোনো টিকাই দুগ্ধদানকারী মা দিতে পারবেন। অন্তঃসত্ত্বা মাও টিকা দিতে পারবেন। এ ব্যাপারে যেন কোনো ভুল বার্তা না যায়, তা নিশ্চিত করতে প্রচার চালাতে হবে সরকারকে।’

default-image

হোমায়রা, হনুফারা অগ্রাধিকার পেয়েছেন

হোমায়ারা খানমের মতো বয়স্ক ও অসুস্থ নারী হনুফা খাতুন (৬৭) ও প্রেমলা চিরানকে (৬২) অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়া হয়। হনুফা খাতুনকে পুত্রবধূ এবং প্রেমলা চিরানকে মেয়ে টিকা দিতে নিয়ে এসেছিলেন। হনুফা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অসুস্থ। অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে কষ্ট হয়। অনলাইনে নিবন্ধন করলে দূরের কেন্দ্র পাওয়া যায় বলে আগে টিকা নেননি। এখন বাসার কাছে ব্যবস্থা হওয়ায় আসতে পেরেছেন।

কেন্দ্রটিতে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম এক ঘণ্টায় ৭১ জনকে টিকা দেওয়া হয়।

টিকাদান বুথে দায়িত্ব পালন করা রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক জাহিদ হাসান প্রথম আলোকে জানান, প্রথম দিন ৩১৭ জন ও দ্বিতীয় দিন ৩১২ জন টিকা নিতে এসেছিলেন। যাঁরা আজ টিকা নিয়েছেন, তাঁদের দ্বিতীয় ডোজের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর সময় দেওয়া হয়েছে।

রান্নার কাজ করেন শহর বানু নামের এক নারী। গতকাল রোববার তাঁর টিকা দেওয়ার তারিখ ছিল। তবে তিনি আসার পর তালিকায় তাঁর নাম পাননি। তাঁকে আজ আসতে বলা হয়। তবে আজকের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল না। এ কারণে স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তবে বারবার কাজ ফেলে তাঁর জন্য আসা কঠিন জানালে তাঁকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

default-image

‘আগে এলে আগে পাবেন’

সকালে সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল। প্রথম আলোকে তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় তাঁর এলাকায় টিকার বরাদ্দ নেই। তাঁর ওয়ার্ডে ৪০ হাজার ভোটার রয়েছে। টিকা নিতে পারছেন ২৫ বছরের বেশি বয়সীরা। তাঁর অনুমান, ভোটারদের অর্ধেকসংখ্যক ২৫ বছরের বেশি বয়সী। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভোটার আছেন সাড়ে চার হাজারের মতো। ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ছয় দিনের টিকার জন্য ২ হাজার ১০০ টিকা তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০০ টিকা কালাচাঁদপুর ও নদ্দা এলাকার এবং ৭০০ টিকা শাহজাদপুর এলাকার জন্য। ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন এই কর্মসূচিতে।

জাকির হোসেন বাবুল বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে বলা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে লোকজন নিবন্ধন করে যান। এটা অনলাইনে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে হচ্ছে না। টিকা নেওয়ার পর তালিকা অনুসারে ওই ব্যক্তিদের নাম অনলাইনে নিবন্ধন করা হবে। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় টিকা কম হওয়ায় ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৩৫০ জনকে টিকা দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত যাঁরা টিকা দিতে আসেননি, তাঁরা ১২ তারিখের মধ্যে এলে টিকা দেওয়া হবে। তা না হলে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন