বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ে। গত জুন মাস থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনার ডেলটা ভেরিয়েন্ট (এ ধরনটি ভারতে উৎপত্তি) ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে নতুন রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। জুলাই মাসে এসে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করে। তবে আগস্ট মাসের শুরু থেকে দেশে করোনার সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

শনাক্তের চেয়ে সেরে উঠেছেন বেশি

জুলাই মাসের মাঝামাঝি এসে দেশের চিকিৎসাধীন রোগী প্রথমবারের মতো দেড় লাখ ছাড়ায়। ২২ জুলাই দেশে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯০৫ জন। সেদিন পর্যন্ত সুস্থতার হার ছিল ৮৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

আগস্ট মাসের শুরু থেকে দেশে করোনা সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত, মৃত্যু ও শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯২ জনের। এ সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ২৭ হাজার ৯২৪ জন। অর্থাৎ শনাক্তের চেয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।

চিকিৎসাধীন রোগীও কমে আসছে
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, দেশে করোনার মৃদু সংক্রমণের রোগী বেশি। এমন রোগীদের সুস্থ হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কিছুদিন ধরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কম। তবে আগের শনাক্ত হওয়া রোগীরা এই সময়ে সুস্থ হচ্ছেন। এতে দৈনিক শনাক্তের চেয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাধীন রোগীও কমে আসছে।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩১৩ জনের। দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ১৩৬ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ হাজার ৭২৭ জন।

শয্যা বেশির ভাগই ফাঁকা
চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় হাসপাতালের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। জুলাই মাসে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিশেষ করে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে সাধারণ শয্যা পেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল রোগীদের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৮টি আইসিইউর মধ্যে ৮৩৫টিই ফাঁকা ছিল। অন্যদিকে ১৫ হাজার ৪১৪টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ১২ হাজার ৭১৯টি শয্যাই ফাঁকা ছিল। হাসপাতালের এমন পরিস্থিতিকে ‘স্বস্তিদায়ক’ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আইইডিসিআরের পরামর্শক মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে করোনা আক্রান্তদের বড় অংশ তরুণ। যাঁদের লক্ষণ মৃদু এবং অন্যান্য রোগ নেই, তাঁদের সবার সুস্থ হওয়ার কথা। আবার বয়স বেশি হলেও অন্যান্য রোগ কম থাকা ব্যক্তিদের অনেকে বাসায় থেকেও সুস্থ হচ্ছেন। মূলত যাঁদের বয়স বেশি এবং একই সঙ্গে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, তাঁদেরই করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন