default-image

করোনা টিকা গ্রহণকারীদের নিবন্ধন হচ্ছে ধীরগতিতে। গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত ১৭ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। এখনো ৩৮টি জেলার টিকাবিষয়ক কমিটি অগ্রাধিকার পাওয়া জনগোষ্ঠীর তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

১৩ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর সারা দেশের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে জেলার করোনা টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকারভিত্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলেছিলেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি জেলার টিকাবিষয়ক কমিটির প্রধান এবং সিভিল সার্জন কমিটির সদস্যসচিব। ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসক বা সিভিল সার্জনের সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করেছিলেন। ২৬টি জেলা থেকে তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ঢাকার তালিকা চূড়ান্ত হয়নি বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রথম আলোকে জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ও করোনাবিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রোবেদ আমিন গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, করোনা টিকা পাওয়ার জন্য সুরক্ষা ওয়েবসাইটে ১৭ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে অতিশিগগির চিঠি পাঠাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তালিকা তৈরি হয়নি, এমন ৩৮ জেলায় তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে প্রশাসন থেকে প্রথম আলোকে জানানো হয়েছে। একাধিক জেলা থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পাননি বলে তালিকা চূড়ান্ত করতে পারছেন না।

সরকার ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকা দেওয়ার দিন ঠিক করেছে। শুক্রবার ছাড়া দুই সপ্তাহে ১২ দিন টিকা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া চলবে। এই সময় ৬০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে আট সপ্তাহ পর। কিন্তু কত মানুষ নিবন্ধন করবেন, তা অনুমান করতে পারছেন না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

অস্পষ্ট নির্দেশনা

সরকার বলেছিল, করোনা টিকার বিষয়ে নিবন্ধন করার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হবে। অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দরকার হবে। সেই অ্যাপ এখনো চালু হয়নি। এখন সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত অগ্রাধিকার পাওয়া জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিবন্ধন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অবহেলিত ক্রান্তীয় রোগ নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। এটা একটি নতুন পদ্ধতি। আশা করা যায়, সমস্যা দূর হবে।

অনলাইনে নিবন্ধনের কথা বলা হলেও প্রতিটি জেলা থেকে অগ্রাধিকার পাওয়া জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে। জেলার তালিকায় যাঁরা নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাঁরা নিজেরা নিবন্ধন করবেন কি না, তা আগে পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

মোহাম্মদ রোবেদ আমিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, তালিকায় নাম থাকলেও তাঁকে নিবন্ধন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা-প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকা দেওয়ার যে পরিকল্পনা করেছে, তাতে বলা আছে, একটি কেন্দ্রে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া হবে। সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়া হবে।

একেকটি সরকারি হাসপাতালে একাধিক কেন্দ্র হবে। যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি কেন্দ্র হবে (বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে ১০টি বুথ)। দেশের সব সরকারি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি করে ও ছোট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি করে কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকা শহরে ৩৫৪টি কেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে। এর অনেকগুলো হবে সরকারি হাসপাতালে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা হাসপাতালে একটি করে কেন্দ্র হবে।

জেলায় জেলায় টিকা

গতকাল ২৫ জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে করোনার টিকা পৌঁছে দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। এ নিয়ে ৬১ জেলায় টিকা পৌঁছে গেছে। গত সপ্তাহের শেষে ৩৬ জেলায় টিকা পৌঁছে দিয়েছিল বেক্সিমকো। নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কবে টিকা পৌঁছাবে, তা নিশ্চিত করেনি বেক্সিমকো। তবে ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব জেলায় টিকা পৌঁছে দেওয়ার কথা।

কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দেশে এ পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ৫৬৭ জনকে। ২৭ জানুয়ারি টিকা কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে দেওয়া হয় ২৬ জনকে। পরদিন দেওয়া হয় ৫৪১ জনকে। তাঁদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ইতিমধ্যে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। টিকা নিয়েছেন, এমন একজন গণমাধ্যমকর্মী প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নেওয়ার দিন রাতে তাঁর জ্বর এসেছিল। এক দিন জ্বর ছিল। এখন তিনি সুস্থ।

টিকা নেওয়ার পর অল্পসংখ্যক মানুষের সামান্য জ্বর দেখা দিয়েছে, এমন তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছেও আছে। মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, ‘সামান্য জ্বর হওয়ার কথা আমাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এমন মানুষও সংখ্যায় কম। যেমন বিএসএমএমইউতে টিকা নিয়েছেন ১৯৮ জন। সামান্য জ্বরের কথা শোনা গেছে সাতজনের কাছ থেকে।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোর ৬৩ জেলার প্রতিনিধিরা)

তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া ৩৮ জেলা

সিলেট, হবিগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বান্দরবান, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর, রাজবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন