বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট শনাক্ত রোগীর মধ্যে সুস্থ হওয়া ও মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিলে দেশে গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৪৫ হাজার ৯৭৪ জন। গত ১৩ এপ্রিল দেশে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ১২৮ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক রোগতত্ত্ববিদ মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের লক্ষণ মৃদু এবং অন্যান্য রোগ নেই, তাঁদের সবার সুস্থ হওয়ার কথা। আবার বয়স বেশি হলেও অন্যান্য রোগ কম থাকা ব্যক্তিদের অনেকে বাসায় থেকেও সুস্থ হচ্ছেন।

গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন মাস শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে এসেছিল। মার্চের শুরুতে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৪০ হাজার। কিন্তু মার্চ থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চীনের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের যৌথ মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, মৃদু সংক্রমণের (মাইল্ড কেস) ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে। আর যেসব রোগীর অবস্থা জটিল বা অন্য সংকটাপন্ন রোগ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সুস্থ হতে সময় লাগে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মার্চ মাসে সুস্থ রোগীর চেয়ে শনাক্ত বেশি—১৯ হাজার ৩৩৪ জন। এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্ত বেশি ছিল। চার সপ্তাহ ধরে সংক্রমণে নিম্নমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। আগে শনাক্ত হওয়া রোগীরা এই সময়ে সুস্থ হচ্ছেন। চলতি মে মাসের প্রথম ১৬ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫৭৫ জনের। বিপরীতে এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৭ হাজার ৩৬৫ জন।

পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস শুরু থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনাবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে আসছে। আজ সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। আর চিকিৎসাধীন রোগীর দিক থেকে বাংলাদেশ ৩৪তম স্থানে।

দেশে গতকাল সুস্থতার হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ৯ জনের বেশিই সুস্থ হয়ে গেছেন। এক মাস আগে এই সুস্থতার হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শনাক্তের চেয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সুস্থতার হারও বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, করোনায় আক্রান্তদের একটি বড় অংশ বয়সে তরুণ। ফলে সুস্থতার হার বেশি। আর কিছুদিন ধরে রোগী শনাক্ত হচ্ছে কম। শনাক্তের চেয়ে সুস্থতা বাড়ার এটিও বড় কারণ।

তবে চলতি মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে আবার করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঈদের আগে বিপণিবিতান, মার্কেটগুলোতে ব্যাপক লোকসমাগম ছিল। মানুষ ঢাকা ছেড়েছে গাদাগাদি করে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যায়নি। এর সঙ্গে বাড়তি শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট (রূপান্তরিত ধরন), যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বাড়তে শুরু করলে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করবে।

করোনাভাইরাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন