করোনায় আরও একজনের মৃত্যু, কিন্তু কেন
করোনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার এই তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হিসাব করে দেখা যায়, ২০ দিন পর করোনায় আরও ১ জনের মৃত্যু হলো। সবশেষ মৃত্যু হয়েছিল গত ৩০ মে।
করোনায় মৃত্যু অস্বাভাবিক নয়। এখন পর্যন্ত করোনায় দেশে ২৯ হাজার ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০০ জন শনাক্তের বিবেচনায় ১ দশমিক ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, মৃত্যুর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে। আবার নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি মারা গেছেন।
এখনো বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু ঘটছে, তবে মৃত্যুর প্রবণতা ক্রমহ্রাসমান। বাংলাদেশেও মৃত্যু কমেছে। মৃত্যুহীন ২০টি দিন অতিক্রম করার পর আবারও মৃত্যুর সংবাদ শোনা গেল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই মৃত্যু। এই মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল কি না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল যে ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে। পুরুষ ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ এর মধ্যে।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, করোনায় ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই বয়সীদের বড় অংশটি একাধিক রোগে ভুগতে থাকেন। এর মধ্যে আছে—উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, ক্যানসার, হৃদ্রোগ, শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ ইত্যাদি। এসব রোগে ভোগা ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁর জটিলতা বেড়ে যায়, সঙ্গে বাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও।
তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা এটাও বলছেন যে প্রতিটি মৃত্যুর পর্যালোচনা হওয়া দরকার। সঠিক কারণ যদি জানা যায়, তা হলে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে আরও মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।
করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর খবর প্রথম পাওয়া যায় ২০২০ সালের ১৮ মার্চ। একটা পর্যায়ে মৃত্যুর কিছু তথ্য পর্যালোচনা করেছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও গবেষকেরা। তাঁরা দেখছিলেন, মৃত্যুর বড় অংশটি ঘটছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। অর্থাৎ অনেকে হাসপাতালে আসছেন বিলম্বে, পরিস্থিতি অনেক খারাপ হওয়ার পর। এর অর্থ হচ্ছে সংক্রমণকে গুরুত্ব না দেওয়া।
এখানে সচেতনতার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেয়। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ঝুঁকি নেওয়া চলবে না। প্রথম কাজ হবে নমুনা পরীক্ষা করানো। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরামর্শের জন্য স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩-তে ফোন করা যেতে পারে। ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সীরা আক্রান্ত হলে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এসব করলে কিছু মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে।